what is my ip address?

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

সুস্থ ও সুন্দর জিবন গড়তে আমাদের স্বাস্থ্য

এই প্রশ্নগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ! কেন এড়িয়ে চলবেন তেল, চর্বি, ভাজা-পোড়া, সফ্‌ট ড্রিংকস?

মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০১৫



হিমোফিলিয়াঃ বংশগত রক্তরোগ 

হিমোফিলিয়া:
একটি জন্মগত, বংশগত রক্তরোগ, যা মা-বাবার কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে জিনের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। জিন হচ্ছে এক ধরনের প্রোটিন। মানুষের গায়ের রং, চুল, সর্বোপরি পূর্ণতা প্রাপ্তিতে যা কিছু দরকার, সবই এই জিনের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত হয়ে থাকে। ৩০ শতাংশ হিমোফিলিয়া রোগীর ক্ষেত্রে মা-বাবার কাছ থেকে সঞ্চালিত হওয়ার কোনো কারণ থাকে না। সেসব ক্ষেত্রে রোগীর নিজের মধ্যে জিনের পরিবর্তনের ফলেই এ রোগের সৃষ্টি হয়ে থাকে।

হিমোফিলিয়ায় আক্রান্ত রোগীর শরীরে কোথাও কেটে গেলে বা ব্যথা পেলে রক্ত জমাট বাঁধতে বেশ সময় লাগে। রক্ত জমাট বাঁধার জন্য দুটি অত্যাবশ্যকীয় প্রোটিন, যেমন ফ্যাক্টর-৮ ও ফ্যাক্টর-৯ দরকার হয়। যাদের ফ্যাক্টর-৮ বা হিমোফিলিক ফ্যাক্টর থাকে না বা পরিমাণে কম থাকে, সেসব রোগীকে বলা হয় হিমোফিলিয়া ‘এ’, যাদের ফ্যাক্টর-৯ কম থাকে তাদের বলা হয় হিমোফিলিয়া ‘বি’ রোগী। উত্তরাধিকার হিসেবে কীভাবে বংশানুক্রমিক হয়।

?? মা সুস্থ, বাবা হিমোফিলিয়ায় আক্রান্ত, তাহলে এই দম্পতির মেয়েশিশুরা হবে রোগের বাহক, ছেলেরা সুস্থ থাকবে।
?? মা হিমোফিলিয়ার বাহক, সে ক্ষেত্রে ৫০ ভাগ ঝুঁকি ছেলের হিমোফিলিয়া হওয়ার এবং ৫০ ভাগ আশঙ্কা মেয়ের রোগের বাহক হওয়ার।
?? কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেয়েরাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে, যদি মা বাহক এবং বাবা হিমোফিলিয়ায় আক্রান্ত হন।

সাধারণত তিন ধরনের বহিঃপ্রকাশ হয় রক্ত জমাট বাঁধার মাত্রার ওপর। যেমনঃ মাইল্ড হিমোফিলিয়া, যেখানে ফ্যাক্টর-৮ ও ৯ থাকবে ৫০ থেকে ১৫০ শতাংশে। মডারেট হিমোফিলিয়া এখানে রক্ত জমাট বাঁধার মাত্রা ১ থেকে ৫ শতাংশ।
এসব রোগীর গুরুতর আঘাত বা অনেক সময় ধরে অপারেশন করলে রক্তক্ষরণ হয়।

সিভিয়ার হিমোফিলিয়া, এখানে ফ্যাক্টর-৮ বা ৯-এর মাত্রা থাকে ১ শতাংশেরও কম। সপ্তাহে এক থেকে দুবার আপনাআপনি রক্তক্ষরণ হয় মাংসপেশি বা অস্থিসন্ধিতে, বিশেষ করে হাঁটুতে।
হিমোফিলিয়ার উপসর্গ
জ্নের সময় অনেক শিশুরই দেখা যায় মাথাটা একদিকে ফুলে গেছে অথবা নাভি কাটার পর সহজে রক্ত বন্ধ হতে চায় না।

শিশুকে বাহুতে ধরে কোলে নেওয়ার সময় দেখা যায়, যেখানে ধরে কোলে নেওয়া হয়েছে সেখানটা লাল হয়ে গেছে। শিশু যখন একটু বড় হয়ে হামাগুড়ি দিতে শুরু করে, তখন হাঁটু ও কনুইয়ে বড় বড় নীল দাগ হয়ে যায়।
দাঁত ওঠার সময় অতিরিক্ত রক্ত পড়া
বড়দের ক্ষেত্রেঃ যেকোনো আঘাতে মাংসপেশি অথবা বড় বড় অস্থিসন্ধি-যেমন হাঁটু, হিল জয়েন্ট-এসব জায়গা ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, এমনকি মস্তিষ্কের ভেতর রক্তক্ষরণ হয়ে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।
ক্রমাগত অস্থিমজ্জায় রক্তক্ষরণ হতে হতে রোগী পঙ্গু হয়ে যায়।

চিকিৎসার ধরন, কখন প্রয়োজন
যখনই যেখান থেকে রক্তক্ষরণ হবে, সঙ্গে সঙ্গে সেটা বন্ধ করতে হবে। যেমনঃ
?? মাংসপেশিতে রক্তক্ষরণ, বিশেষ করে বাহু ও পায়ে।
?? নাক, কান, গলায় ব্যথা পেলে।
?? অতিরিক্ত মাথাব্যথা হলে।
?? যেকোনো দুর্ঘটনায় রক্তপাত হলে।
কখন চিকিৎসার প্রয়োজন নেই
শরীরের বিভিন্ন অংশে ছোট ছোট নীল দাগ। নীল দাগ যদি মাথার কোথাও হয়, অবশ্যই চিকিৎসক বা হিমোফিলিয়া নার্সের মাধ্যমে পরীক্ষা করাতে হবে।
?? অল্প কাটাছেঁড়া হলে। তবে ক্ষত যদি অপেক্ষাকৃত গভীর হয় তাহলে প্রেসার ব্যান্ডেজ দিলেই রক্তপাত বন্ধ হয়ে যাবে।

নাক দিয়ে রক্ত পড়লে পাঁচ মিনিট নাক চেপে ধরে রাখতে হবে। এতেও যদি রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে না আসে তাহলে চিকিৎসা নিতে হবে।
হিমোফিলিয়া রোগীদের প্রতি নির্দেশ
?? যখনই রক্তপাত হবে সঙ্গে সঙ্গে তা বন্ধ করতে হবে। তাহলে ব্যথাও কম হবে, অস্থিসন্ধিও সুস্থ থাকবে।
?? মাংসপেশি কার্যক্ষম রাখতে হিমোফিলিয়া চিকিৎসক অথবা ফিজিওথেরাপিস্টের নির্দেশে ব্যায়াম করতে হবে।
?? ব্যথানিরোধ বড়ি-যেমন অ্যাসপিরিন খাওয়া যাবে না।
?? নিয়মিত রক্তরোগ-বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
?? মাংসপেশিতে ইনজেকশন নেওয়া যাবে না। তবে টিকা নেওয়া যাবে।
?? দন্তরোগ-বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
?? মেডিকেল আইডেনটিফিকেশন কার্ড সব সময় সঙ্গে রাখতে হবে।
?? তাড়াতাড়ি রক্তপাত বন্ধ করতে প্রাথমিক চিকিৎসা জানতে হবে।
আরও কিছু
?? হিমোফিলিয়া জ্নগত রোগ, এটি ছোঁয়াচে নয়।
?? নির্মূল করতে হলে জেনেটিক্যাল কাউন্সেলিং করা প্রয়োজন।
?? রোগের বাহককে চিহ্নিত করতে হবে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচ হাজার ছেলেশিশুর মধ্যে একজন হিমোফিলিয়া নিয়ে জ্ন নেয়। বর্তমানে সারা বিশ্বে চার লাখ লোক এ রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ উপযুক্ত চিকিৎসা পাচ্ছে। 

ডা• মাসুদা বেগম
সহযোগীঅধ্যাপক, হেমাটোলজি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখমুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
প্রথম আলো, ২৩ এপ্রিল ২০০৮

রবিবার, ১৪ জুন, ২০১৫



Confusion , and the reality of the heart valves surgery .


হার্টের ভাল্ব সার্জারি বিভ্রান্তি ও বাস্তবতা


হার্টের ভাল্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা পরিষ্কার নয়। অনেকে মনে করেন ভাল্ব হার্টের শক্তির উৎস, এটা হার্টকে শক্তি জোগায়। কাজেই ভাল্ব দুর্বল হলে তা পরিবর্তন করে নিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আসলে হার্টের ভাল্ব ব্যাটারি বা আলো জাতীয় কিছু নয়, এগুলো অনেকটা একমুখী দরজার মতো যা এক দিকে খোলে এবং বিপরীত দিকে বন্ধ হয়। আপনারা পানির লাইনে ভাল্ব দেখেছেন যা পানির চলার দিক নিয়ন্ত্রণ করে। এই ভাল্বগুলো পানি চলতে সাহায্য করে কিন্তু ফিরে আসতে বাধা দেয়। হার্টের ভাল্বগুলো ঠিক একইভাবে হার্টের ভেতরে রক্ত চলার দিক নিয়ন্ত্রণ করে। 

হার্টের ৪টি ভাল্ব 
হার্টে ৪টি ভাল্ব বা দরজা থাকে এবং এর ২টি ভাল্ব বেশির ভাগ সময় অসুস্থ হয়। ভাল্বে সাধারনত দুুই ধরণের অসুস্থতা দেখা যায়- (১) ভাল্ব সরু হওয়ার- ফলে সরু দরজা দিয়ে রক্তের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং প্রয়ে্‌্‌াজনীয় পরিমাণ রক্ত সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। (২) ভাল্ব ষবধশ করা- কিছু রক্ত পেছনের দিকে চলে যায় এবং সন্মুখ দিকের রক্তপ্রবাহ কমে যায়। এই দুই ধরনের অসুখই সঠিকভাবে প্রয়োজনীয় পরিমাণ রক্তপ্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস করে এবং হার্ট অতিরিক্ত কাজের মাধ্যমে শরীরের চাহিদা মোতাবেক রক্তপ্রবাহের চেষ্টা করে। এই অতিরিক্ত কাজ করতে করতে এক সময় হার্ট দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সমস্ত শরীরের সঠিক রক্তপ্রবাহ বিঘ্নিত হয়। এ অবস্থায় রোগীর শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে, বুক ধড়ফড় করা, কাশি, বুকে ব্যথা, শরীরে পানি জমাসহ নানা রকম সমস্যার সৃষ্টি হয়। 
এখন প্রশ্ন হলো কেন ভাল্ব অসুস্থ হয়? অনেক কারণে এই রোগ হতে পারে তবে আমাদের দেশে প্রধানতঃ 

বাত জ্বরের জটিলতা থেকে এই রোগ বেশি হয়। বাত জ্বর যদি প্রাথমিক অবস্থায় সঠিকভাবে চিহ্নিত না হয় অথবা চিহ্নিত হওয়ার পরেও যদি সঠিকভাবে চিকিৎসা করা না হয় তখন অনেক দিন পরে হার্ট ভাল্বের অসুখ শুরু হয়। অথচ সঠিকভাবে বাত জ্বরের চিকিৎসা করা হলে ভাল্বের অসুখ পুরোপুরি ফেরানো সম্ভব। সুখবর হলো মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন হয়েছে এবং ভাল্বের অসুখ আগের চেয়ে অনেকাংশে কমে এসেছে। 

জন্মগত ত্রুটির কারণে কখনো ভাল্বের অসুখ হতে পারে। এই্‌ ক্ষেত্রে পূর্বসতর্কতা রোগ প্রতিরোধে তেমন সহায়ক হয় না বরং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থতা রক্ষা করাই মুখ্য উদ্দেশ্য। 

বেশি বয়সে ভাল্বে ক্যালসিয়াম জমে কখনো কখনো ভাল্ব শক্ত হয়ে যায় তখন ভাল্বের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়। এই ক্ষেত্রেও সঠিক চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে রোগী সুস্থ থাকতে পারেন কিন্তু পূর্বসতর্কতা রোগ প্রতিরোধে তেমন কার্যকরী হয় না। 

ভাল্বের অসুখ হলে একজন ভালো হার্টের চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তিনি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আপনার রোগের গুরুত্ব অনুসারে সঠিক এবং সময়োপযোগী চিকিৎসা নির্ধারণ করবেন। ভাল্বের অসুখ শুনেই ভীত হবেন না, বর্তমানে এই রোগের অত্যন্ত কার্যকরী, গ্রহণযোগ্য সুচিকিৎসা আছে, যার মাধ্যমে পুরোপুরি সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব। অযথা বিভ্রান্ত হবেন না, হার্টের অসুখ মনে হলে একজন দক্ষ হার্টের চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

ডা. এম. আখতার হোসেন
লেখকঃ কনসালট্যান্ট-কার্ডিয়াক সার্জন, স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা
দৈনিক নয়া দিগন্ত, ২০ এপ্রিল ২০০৮

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০১৫

রক্তদুষ্টি বা সেপসিস


রক্তদুষ্টি বা সেপসিস


যখন কোনো জীবাণু মানবদেহে প্রবশে করে তখন শরীরে যে অসুস্থতা দেখা দেয় তাকে রক্তদুষ্টি বলা হয়। রক্তদুষ্টির সাথে যদি কোনো অঙ্গের রক্ত চলাচল কমে যায় কিংবা তার কার্যকারিতাতে অস্বাভাবিকতা প্রকাশ পায় তবে তাকে তীব্র রক্তদুষ্টি বলা হয়ে থাকে। যখন রক্তদুষ্টির সাথে শরীরে রক্তচাপ কমে যায় তখন তাকে রক্তদুষ্টিজনিত অবসাদ বলা হয়ে থাকে। 

রক্তদুষ্টির তীব্রতা যত বাড়ে মৃত্যুহার ততই বেড়ে যায়। ম্যালেরিয়া ছাড়া অল্পসংখ্যক জীবাণুই রক্তে বংশবিস্তার করে থাকে। যখন শরীরের প্রতিবন্ধকতায় ছেদ পড়ে কিংবা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লোপ পায় তখন জীবাণু শরীরের রক্তে ঢুকে পড়ে ও রক্তদুষ্টি সৃষ্টিতে সাহায্য করে থাকে। 

বাইরের দিক থেকে চমড়া ও ভেতরের দিক থেকে শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী দিয়ে শরীরে আবৃত থাকে। বহিস্থ বাধার অখণ্ডতা হারালে সাধারণত বোঝা যায়, কিন্তু মুত্র নিষ্কাশনের জন্য মূত্রনালীতে নল, শিরার ভেতরে নল কিংবা শ্বাসনালীতে নল ইত্যাদি দিয়ে সৃষ্ট ক্ষুদ্র ফাটল সহজে বোঝা যায় না। অনেক সময় ক্ষুদ্র ক্ষত থেকেও রক্তদুষ্টি হতে পারে। যেমন কীটপতঙ্গের কামড়, কাঁটার খোঁচা ও চামড়ায় সামান্য ক্ষত ইত্যাদি। সাধারণত খাদ্যনালী যা মুখ থেকে পায়ুপথ পর্যন্ত বিস্তৃত, এমনকি যা যকৃত ও পিত্তকে অন্তর্ভুক্ত করে সেখানেও আন্তঃস্থ বাধায় ফাটল ধরে বেশি। 

কোনো অসুখ রোগ জীবাণুর দ্বারা হয়েছে কি না তার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হলো সেই জীবাণুকে মাইক্রোস্কোপের নিচে শনাক্ত করা বা গবেষণাগারে সেই জীবাণু উৎপাদন করা। যা হোক রোগজীবাণু গবেষণাগারে উৎপাদন করতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে এবং এদের মধ্যে অর্ধেক জীবাণু সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায় না, কেননা অনেক জীবাণু ধীরে ধীরে উৎপাদিত হয়, অনেক রোগী আগেই এন্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যবহার করে থাকে এবং অনেক সময় নমুনা সংগ্রহ করতে ভুল হয়ে যায়। সাধারণত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে এন্টিবায়োটিক ওষুধ শুরু করে দেয়া হয় এবং পরে গবেষণাগারে ওই জীবাণু উৎপাদন করে ও তার সংবেদনশীলতা দেখে রোগের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায় অথবা ওষুধের পরিবর্তন করা যায়। অত্যন্ত আধুনিক পদ্ধতিতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এবং গবেষণাগারে উৎপাদন ছাড়াই জীবাণু শনাক্তকরণ এবং ওষুধের কার্যকারিতা সম্বন্ধে ধারণা নেয়া যায়। পিসিআর (চঈজ) নামক পদ্ধতিতে ডিএনএ (উঘঅ) সম্প্রসারণের মাধ্যমে এটি করা হয়। কিন্তু এ পদ্ধতি ব্যয়বহুল এবং এখনো আমাদের দেশে বহুল প্রচারিত নয়। 

চিকিৎসা সাধারণত দুই ভাগে করা হয়ে থাকে­ সাধারণ প্রয়োজন অনুযায়ী যোগান দেয়া ও সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা। নানা কারণে রক্ত চলাচল কমে যেতে পারে এবং তা বেশি দেরি না করেই পূরণ করতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্যালাইন দিয়ে এর অভাব পূরণ করা হয়। যখন স্যালাইন দিয়ে এর অভাব পূরণ করা না যায় তখন ইনজেকশন ব্যবহার করতে হয়। ডোপামিন জাতীয় ইনজেকশন সাধারণত ব্যবহার করা হয়। শরীরের রক্ত চলাচল কমে গেলে সময়মতো তা লক্ষ্য প্রয়োজনবোধে যন্ত্রচালিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করলে অনেক রোগী বেঁচে যাবে। 

রক্তদুষ্টিজনিত অনেক রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাসের সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে। কেননা এসব রোগীর শ্বাসের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়। রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের মাংশপেশির অকার্যকারিতা দেখা দেয় যদিও ফুসফুসের কোনো প্রদাহ হয় না। কোনো কোনো রোগীর অত্যন্ত শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। মাঝে মাঝে অবসাদ কমিয়ে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় কমানো যায়। 

অসুখের তীব্রতা কিডনির কার্যহীনতা দেখা দেয়।

সাধারণত পুষ্টি রক্ষা করার জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে নল দিয়ে খাবার ও পানীয় দিতে হবে। রক্তদুষ্টি রোগে রক্তে চিনির পরিমাণ বেড়ে যায়। এমতাবস্থায় আধিক্য নিয়ন্ত্রণের জন্য ইনসুলিনের ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। 

সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার মধ্যে প্রথম এবং প্রধান চিকিৎসা হলো প্রচলিত জীবাণুনাশক জীবাণু ওষুধ। রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চিকিৎসা চালু করে ফেলতে হবে। এতে মৃত্যুহারও কমে আসবে। তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু না করলে মৃত্যুহার বেড়ে যাবে। বেশিরভাগ রক্তদুষ্টি গ্রাম পজিটিভ জীবাণু দ্বারা হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু রক্তদুষ্টি শ্বাসনালীতে পেটের ভেতরে কিংবা মূত্রনালীতে শুর হয়। যা হোক, প্রাথমিক অবস্থায় প্রদাহের উৎস জানা সম্ভবপর নাও হতে পারে। এন্টিবায়েটিক চিকিৎসা রোগীর সংবেদনশীলতা দেখে কিংবা স্থায়ীভাবে জীবাণুর প্রতিবন্ধকতা জেনে ব্যবহার করতে হবে। সাধারণত যেসব এন্টিবায়োটিকের কার্যকারিতার পরিধি 

বিস্তৃত সেসব এন্টিবায়েটিক ব্যবহার করতে হয়। যদি ছত্রাকজাতীয় প্রদাহের সম্ভাবনা থাকে তবে এর জন্য ওষুধ ব্যবহার করতে হবে শুরুতেই এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি কোনো উন্নতির লক্ষণ দেখা না যায় তবে অন্যান্য সহকর্মীর সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি প্রথম স্তরের ওষুধ কার্যকর না হয় তবে রোগীর ভবিষ্যত খারাপ।

যদি প্রদাহের উৎস সম্বন্ধে সুনির্দিষ্ট ধারণা থাকে তবে যেসব এন্টিবায়োটিকের পরিধি সীমিত সেসব এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত। 
তীব্র রক্তদুষ্টিতে শরীরে স্টেরয়েড তৈরি কম হয়। অল্প পরিমাণে হাইড্রোকর্টিসন (ঐীনড়সধসড়য়মঢ়সষপ) ৫ থেকে ১১ দিন দিলে শকের সময় কমে আসে এরবং মৃত্যুহারও কমে আসে। যেসব রোগীর এড্রিনাল গ্রন্থির কার্যকারিতা কম থাকে তাদের বেলায় উপকার বেশি পাওয়া যায়। 

স্ট্যাটিন ব্যবহার করলে রক্তদুষ্টির ঝুঁকি কমে যায় এবং এতে মৃত্যুহারও কমে। 
যদি রক্তদুষ্টির ক্রমবৃদ্ধি এন্টিবায়োটিক দ্বারা নিয়ন্ত্রণে না আনা যায় তবে বিভিন্ন অঙ্গের অকার্যকারিতা দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন অঙ্গের অকার্যকারিতার সাথে মৃত্যু ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। মধ্যম মেয়াদে কিংবা দীর্ঘ মেয়াদে কিডনির কার্যকারিতায় গোলযোগ দেখা দেয়। যাদের ক্ষণস্থায়ীভাবে কিডনির অকার্যকারিতা দেখা দেয় তাদের অনেকের ডায়ালাইসিস করতে হয়। এদের মধ্যে আবার অনেকেই পরবর্তী সময়ে ডায়ালাইসিস ছাড়াই চলতে পারে।


লেখক:
ডা. এ কে এম আমিনুল হক
লেখকঃ সহযোগী অধ্যাপক (মেডিসিন), ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০১৫


করোনারি হৃদরোগ নিরাময় ও প্রতিরোধে মেডিটেশন


হার্ট অ্যাটাক এমন এক হৃদয় সমস্যা যা যেকোনো সময় এতটুকু পূর্বাভাস না দিয়ে, একটুও সময় না দিয়ে কেড়ে নিতে পারে যেকোনো মানুষের জীবন। 
বাংলাদেশে প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজনের হার্টের সমস্যা আছে এবং প্রতি ১ হাজার জনের একজন হার্টের সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট ১৮ মার্চ ঢাকায় এক বিবৃতিতে একথা জানায়। সাম্প্রতিক এক জরিপের উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, হার্টের সমস্যা ধীরে ধীরে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করে। ফলে প্রতি বছর ১৫ থেকে ২০ শতাংশ লোক উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যার অর্ধেকই মারা যায় হার্টের রোগে ও স্ট্রোকে। 
গত তিন দশকে এ দেশে করোনারি হৃদরোগের প্রকোপ যত বেড়েছে, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা, বেড়েছে আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু। হার্ট অ্যাটাক হয়েও বেঁচে থাকার নানা মাত্রার অক্ষমতা আর তীব্র মৃত্যু ভয় নিয়ে দিন কাটানোর বিড়ম্বিত জীবন কাটানোর ঘটনাও স্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক ব্যাপার হলো, এ দেশে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হচ্ছেন ৫০ পার করা তো বটেই, আক্রান্ত হচ্ছেন ৪০ পার করা অসংখ্য মানুষ। ৩০ পার করে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হচ্ছেন, বিশেষ করে দেশের বড় শহরগুলোতে এমন সংখ্যাও আজ আর খুব বিরল নয়। করোনারি হৃদরোগ আর হার্ট অ্যাটাক পুরোপুরি না হলেও অনেকটাই প্রতিরোধযোগ্য। করোনারি হৃদরোগ আক্রান্ত হলেও নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন মেনে চললে আর যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধপত্র খেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমিয়ে আনা যায় উল্লেখযোগ্যভাবে। 
বিশ্বের ১ নম্বর মরণব্যাধি হচ্ছে হৃদরোগ। করোনারি আর্টারি রোগের কারণে এক-তৃতীয়াংশ রোগী মারা যায়। লাখ লাখ হার্ট অ্যাটাক হয় প্রতি বছর। ২৫ শতাংশ লোক হাসপাতালে আসার আগেই মারা যায়। যদিও বাংলাদেশে বেশ কিছু সেন্টারে এনজিওপ্লাস্টি ও বাইপাস করা হচ্ছে তা কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সচ্ছল রোগীরা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হৃদরোগের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলছে এবং এভাবে বেড়ে চললে আগামীতে হৃদরোগের চিকিৎসার হাসপাতাল ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কয়েকগুণ প্রয়োজন হবে। কিন্তু রাতারাতি হৃদরোগের ডাক্তারের সংখ্যা ও বেড বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই এর চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত। 
হৃদরোগের কারণঃ এর অন্যতম কারণ এ দেশের মানুষের জীবনযাত্রায় দ্রুতলয়ে পশ্চিমী ধাঁচের পরিবর্তন। ফাস্টফুডের রমরমার সাথে তাল মিলিয়ে বেড়েছে গাদাগুছের ফ্যাট খাওয়ার প্রবণতা, কমেছে যথেষ্ট শাকসবজি আর ফলফলাদি খাওয়ার অভ্যাস, কমেছে টাটকা খাবার খাওয়ার ঝোঁক, কমেছে পরিশ্রম। 
জীবনের গতি বাড়তে বাড়তে জেটগতির জীবনের অভ্যস্ত হতে শুরু করেছেন একশ্রেণীর মানুষ। দ্রুতগতির জীবনে ইঁদুর দৌড় দৌড়াতে হলে মনের ওপর চাপ বাড়বেই। বাড়বে টেনশন, চাপ সইতে না পেরে বিক্ষত, বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা করোনারি হৃদরোগ বেড়ে চলার এও একটি অন্যতম কারণ। 
অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে গেছে ধূমপান, বিশেষ করে কম বয়সে ধূমপান রপ্ত হওয়ার অভ্যাস। অতীতে বাঙালি জীবনে নানা ধরনের শারীরিক পরিশ্রম ছিল বেঁচে থাকার আবশ্যিক এক প্রয়োজন। কর্মমুখর, পরিশ্রমনির্ভর সেই জীবনযাপনের পদ্ধতি থেকে সরে এসেছেন দেশের এক বড় অংশের মানুষ। গ্রামের একশ্রেণীর মানুষ এখন মোটরসাইকেলে চড়েন বেশি, সাইকেলে চড়েন কম, হাঁটেন আরো কম। শহরাঞ্চলে লাফ দিয়ে দিয়ে বাড়ছে পরিশ্রমবিমুখ গাড়িচড়া আর বসে কাজ করার আয়েশি জীবন কাটানোর প্রবণতা। কমছে শরীরের ব্যায়াম, বাড়ছে হুলত্ব। এ দেশে করোনারি হৃদরোগ বাড়ানোর জন্য এরকম পরিশ্রমহীন বিলাসবহুল জীবনযাপন অনেকটা দায়ী। ধমনীর ভেতরকার দেয়ালে চর্বির স্তর জমে কমতে থাকে রক্তের সঞ্চালন। ধমনীর ভেতর চর্বি জমে ধমনীর গহ্বর ধীরলয়ে সরু হতে থাকে যেকোনো মানুষের ২০-২২ বছর বয়স থেকে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে চর্বি জমার হারও বাড়ে, ধমনীর গহ্বর সরু হয় আরো। ধমনীতে চর্বির স্তর জমে ধমনীর দেয়াল মোটা আর গহ্বর সরু হতে থাকা, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় আথোরোস্কোলোরোসিস, পরিণামে অ্যানজিনা প্যাকটোরিস এবং মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন ঘটনা ঘটে, সোজা কথায় হার্ট অ্যাটাক। অনেকে করোনারি আর্টারি ব্লকের সমস্যাকে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বলে মনে করে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খান এবং এ রোগের ভয়াবহতা দিন দিন বেড়েই চলে। যখন তীব্র লক্ষণ দেখা দেয় তখন হাসপাতালে যাওয়ার আগে বা পরে অনেকেরই মৃত্যু পর্যন্ত বরণ করতে হয়। 
প্রচলিত চিকিৎসাঃ প্রচলিত চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই করোনারি হার্ট ডিজিসের জন্য অ্যানজিওপ্লাস্টি বা বাইপাস সার্জারি করা হয়। উভয় পদ্ধতিতেই খচর অনেক বেশি এবং তা-ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত নয় এবং কয়েক বছরের মধ্যেই আবার  ব্লক দেখা দেয়। সার্জারির পর একজন মানুষের জীবনীশক্তি কার্যত অর্ধেকে এসে দাঁড়ায়। ওষুধ ও অস্ত্রোপচার ছাড়া চিকিৎসাঃ ওষুধ ও অস্ত্রোপচার ছাড়াই হৃদরোগের নিরাময় লাভ করা সম্ভব এবং এ পদ্ধতির প্রবর্তক হচ্ছেন ক্যালিফোনিয়ার বিজ্ঞানী ডা. ডিন অরনিস। ১৯৮৭ সালে এই পদ্ধতি প্রবর্তনের পর থেকে এর সফলতা সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। জীবনযাপন পরিবর্তনই হচ্ছে এ পদ্ধতির ভিত্তি। ওষুধ ছাড়াই হৃদরোগ চিকিৎসা ডা. অরনিশের সাফল্যের কথা বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ১৯৮৮ সালে। করোনারি আর্টারি রোগী অথচ বাইপাস সার্জারি করতে রাজি ছিলেন না এমন রোগীকে তিনি দু’ভাগে ভাগ করে চিকিৎসা শুরু করলেন। প্রথম গ্রুপের রোগীদের কম ফ্যাট ও বেশি আঁশযুক্ত খাবার, স্টেসমুক্ত থাকার পদ্ধতি, প্রাণায়াম যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন করার উপদেশ ওেয়া হলো। আর দ্বিতীয় দলের রোগীদের হৃদরোগের সচরাচর ওষুধ দেয়া হলো।
দু’গ্রুপের লোকজনকেই বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হলো। রোগের অবস্থা আবার আগাগোড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলো কিছু দিন পরপর, পাওয়া গেল অদ্ভুত ফল। ডা. অরনিশের কার্যসূচি যারা অনুসরণ করেছিলেন তাদের ধমনীতে জমে থাকা চর্বি বা কোলেস্টেরল পরিষ্কার হয়ে রক্ত চলাচল বেড়ে যাওয়ায় তারা ভীতিকর বুকব্যথা থেকে মুক্তি পান এবং তাদের হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমে আসে। অপর দিকে দ্বিতীয় দলের রোগীরা আগের অবস্থায়ই থেকে গেল অর্থাৎ তাদের অবস্থার কোনো উন্নতি হলো না বরং কারো কারো ক্ষেত্রে আগের তুলনায় আরো খারাপ হলো। ভারতের গবেষণাঃ ভারতের রাজস্থানের মাউন্ট আবুতে অবস্থিত গ্লোবান হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে ডা. সতিশ গোপ্তার নেতৃত্বে করোনারি আর্টারি ডিজিস রিগ্রেশনের এক গবেষণা করা হয়। এতে ভারতের অন্যতম হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন, তাদের মধ্যে প্রফেসর অনিল কুমার, ভাইস প্রেসিডেন্ট, এশিয়া প্যাসিফিক সোসাইটি অব কার্ডিওলোজি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট, ইন্ডিয়ান কার্ডিওলোজি সোসাইটি, ডা. এইচ কে চোপড়া (দিল্লি), সেক্রেটারি, কার্ডিওলোজি সোসাইটি অব ইন্ডিয়া, ডা. নরেশ তেহবান, এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর, এসকট হার্ট ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারসহ অনেক কার্ডিওলোজিস্ট ও অন্য বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। 
তারা ১ হাজার ২০০ রোগীর ওপর গবেষণা চালিয়ে যান। ৭ দিন পর থেকেই রোগীরা অনেকটা সুস্থবোধ করতে থাকেন এবং তাদের ওষুধ নেয়ার প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। স্ট্রেস হরমোন লেভেল কমে যায় সেই সাথে কমে ওজন, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা এবং কোলেস্টেরল এবং বেড়েছে ইটিটি, ইজেকশন ফোর্স ও ট্রেডমিল টেস্টের ক্ষমতা। তারা ভারতের প্রেসিডেন্টের কাছে এই গবেষণার রিপোর্ট পেশ করেন। তাতে দেখা যায় প্রায় সব রোগীরই উন্নতি হয়েছে এবং সুস্থতা ফিরে পেয়েছে। 
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাঃ ৩০-৩২ বছর বয়সের এক বাংলাদেশী রোগীর কথা বলছি। ৩ মাস আগে এনজিওগ্রামে তার লেফট এন্টেরিয়র ডিসেন্ডিং আর্টারিতে ৮৫-৯০ শতাংশ ব্লক ধরা পড়ে। ডাক্তাররা তাকে তাৎক্ষণিক এনজিওপ্লাস্টি করার পরামর্শ দেন। কিন্তু টাকার অভাবে তিনি তা করাতে পারেননি। তাকে প্রাণায়াম ও মেডিটেশন পদ্ধতি চালিয়ে যেতে বলা হয়। তিনি বিগত আড়াই-তিন মাসে এখন আগের অপেক্ষা অনেক ভালো আছেন। যেখানে তার আগে আধা মাইল হাঁটতে কষ্ট হতো, এখন সে কষ্ট ছাড়াই দুই-তিন মাইল হাঁটতে পারেন। তিনি এর মধ্যে ভারতের এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখিয়ে এসেছেন। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার বর্তমান অবস্থা দেখে তাকে আগের পদ্ধতিগুলো মেনে চলার পরামর্শ দেন এবং আপাতত এনজিওপ্লাস্টি করার দরকার নেই বলে মত দেন। 
কারা করবেনঃ (১) যাদের হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা আছে, যেমন­ হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, পরিবারে হার্টের অসুখের ইতিহাস, উচ্চ কোলেস্টেরল ও স্থূলতা তারা উপরোক্ত পদ্ধতিগুলো মেনে চলে প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন যাতে তাদের করোনারি আর্টারি ডিজিস না হয়। (২) যাদের এনজিওগ্রাম করার পর করোনারি আর্টারিতে ব্লক ধরা পড়েছে তারা সেকেন্ডারি, প্রতিরোধ করে এ রোগের ভয়াবহ উপসর্গ থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন। (৩) যাদের এনজিওপ্লাস্টি বা বাইপাস অপারেশন করা হয়ে গেছে তাদের যেন আবার ব্লক না হয় সে জন্য তারা টারসিয়ারী প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। 
অধিকাংশ ডাক্তার মনে করেন করোনারি আর্টারি একবার ব্লক হতে শুরু করলে এর গতি আর পাল্টানো যায় না। কিন্তু উপরিউক্ত গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনধারা পরিবর্তন করে বিশেষত খাওয়ার পরিবর্তন, সুচিন্তা, প্রাণায়াম ও মেডিটেশনের মাধ্যমে ব্লক সারানো সম্ভব। আমাদের দেশের লাখ লাখ হৃদরোগী যারা এ রোগের নিরাময়ের জন্য প্রচুর টাকা ব্যয় করে এমনকি অনেকে বাড়িঘর, জমিজমা বিক্রি করে এনজিওপ্লাস্টি বা বাইপাস অপারেশন করছেন বা অনেকে বিদেশে যাচ্ছেন, আবার অনেকের হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তারা উপরিউক্ত পদ্ধতি প্রয়োগ করে আবার পরিপূর্ণ সুস্থ জীবন পেতে পারেন।

ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস
বিভাগীয় প্রধান, ইমিউনোলজি বিভাগ,
শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, ঢাকা।
দৈনিক নয়া দিগন্ত, ১৩ এপ্রিল ২০০৮

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০১৫


Cirrhosis of the liver and heart patients piles



লিভার সিরোসিস ও হার্টের রোগীর পাইলস


লিভার সিরোসিসের রোগীদের কি পাইলস বেশি হয়? 
লিভার সিরোসিসে সাধারণত রক্তবমি হয়। পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়ার সমস্যা কম। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই রোগের কারণে রোগীদের পাইলস হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে না। অবশ্য এ ক্ষেত্রে পায়ুপথে অতিরিক্ত ফুলে ওঠা শিরার (জবপঃধষ াধৎরপবং) দেখা পাওয়া যায়। কিন্তু এটিকে পাইলসের পর্যায়ে ফেলা যায় না। পাইলস ও রেকটাল ভ্যারিসেস সম্পূর্ণ আলাদা রোগ। ডা. হসকিং ১০০ জন সিরোসিস রোগীর ওপর গবেষণা করে দেখেছেন যে শতকরা ৪৪ জনের পায়ুপথে ভ্যারিসেস (অহড়ৎবপঃধষ ঠধৎরপবং) রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো এই রোগীদের শতকরা ৪১ জনের পাইলস বা হেমোরয়েড রয়েছে। এখানে উলে্নখ্য, সর্বসাধারণের অর্থাৎ যাদের লিভার সিরোসিস হয়নি তাদের ও শতকরা ৪১% জনের পরীক্ষা করলে পাইলস পাওয়া যাবে।
চিকিৎসাঃ এ রোগে পায়ুপথে রক্ত গেলে পোর্টাল হাইপারটেনশনের চিকিৎসা করতে হবে এবং পায়ুপথে অপারেশন করে রক্ত বন্ধ করতে হবে, তবে এ অপারেশন পাইলসের অপারেশন নয়। 

হার্টের রোগীর পাইলস :
অনেকে আছেন পাইলসকে অবহেলা করেন। যদি পাইলস থাকা অবস্থায় কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হন তাহলে হৃদরোগের চিকিৎসার আগে পাইলস অপারেশন করে আসা প্রয়োজন। কারণ হৃদরোগ অপারেশনের পর রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধক ওষুধ খেতে হবে বহু দিন। তখন পাইলসের রক্ত যাওয়ার পরিমাণ বিপজ্জনক-ভাবে বেড়ে যাবে। রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধকারী ওষুধের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এসপ্রিন, ডিসপ্রিন ও ইকোসপ্রিন। অনেক উচ্চ রক্তচাপের রোগীও এসপ্রিন, ডিসপ্রিন ও ইকোসপ্রিন জাতীয় ওষুধ নিয়মিত খাচ্ছেন। এগুলো দেয়া হয় হৃদরোগ প্রতিরোধের জন্য। ওষুধটি রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। এমতাবস্থায় পাইলসের রক্তক্ষরণ বন্ধ করা খুবই কষ্টকর। অতএব অবহেলা না করে সময় থাকতে পাইলসের চিকিৎসা করে নেয়া জরুরী।
**************************
অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল হক
বৃহদন্ত্র ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ, 

চেয়ারম্যান, কলোরেকটাল সার্জারি বিভাগ, 
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। 
চেম্বারঃ জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডেশিপ হাসপাতাল, ৫৫, সাত মসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা। দৈনিক নয়া দিগন্ত, ৬ এপ্রিল ২০০৮