what is my ip address?

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

সুস্থ ও সুন্দর জিবন গড়তে আমাদের স্বাস্থ্য

এই প্রশ্নগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ! কেন এড়িয়ে চলবেন তেল, চর্বি, ভাজা-পোড়া, সফ্‌ট ড্রিংকস?

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০১৫


To protect Heart Attack


হার্ট অ্যাটাক রোধে করণীয়


হার্টের উপরিভাগে লেপ্টে থাকে করোনারি আর্টারি বা ধমনী, যার মাধ্যমে হার্ট পুষ্টি এবং অক্সিজেন পায়। যখন করোনারি ধমনীতে চর্বি জমে এবং রক্ত জমাট বেঁধে (শতকরা ১০০ ভাগ) রক্তনালীর রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় তখন উক্ত রক্তনালীর মাধ্যমে হার্টের যে অংশটুকু পুষ্টি এবং অক্সিজেন পেত সেই মাংসপেশিটুকুতে নানারকম পরিবর্তন সাধিত হয়, যাকে আমরা হার্টঅ্যাটাক বলি। মেডিকেল পরিভাষায় বলা হয় মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন। যদিও হার্টঅ্যাটাক হঠাৎ করেই হয় কিন্তু এটি দীর্ঘদিন ধরে করোনারি ধমনীতে অ্যাথেরোসক্লেরোটিক পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি চলমান রোগ প্রক্রিয়ারই বহিঃপ্রকাশ। তাই মারাত্মক এই রোগটিকে কখনো কখনো নিঃশব্দ আততায়ী বলা হয়। তবে সময়মত রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসায় রোগী ফিরে পেতে পারে নতুন জীবন।
হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকিসমূহ
হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকিসমূহের মধ্যে কিছু ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণযোগ্য। আবার কিছু ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। যেমন- পারিবারিক হৃদরোগের ইতিহাস।
ঝুঁকিসমূহ
০ করোনারি ধমনীতে চর্বির আধিক্য
০ ডায়াবেটিস মেলাইটাস
০ উচ্চ রক্তচাপ
০ ধূমপান
০ শারীরিক ওজন বৃদ্ধি
০ পারিবারিক হৃদরোগের ইতিহাস
০ কায়িক পরিশ্রমহীনতা
০ স্ট্রেস
০ মহিলাদের জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি ইত্যাদি।
ধূমপান এবং হার্টঅ্যাটাক
ধূমপানে করোনারি ধমনীতে মাইক্রোইনজুরি হয়, যার ফলে রক্ত জমাট পদ্ধতি ত্বরাম্বিত হয়। এছাড়া ধূমপানে রক্তে কোলেস্টেরল অর্থাৎ যে কোলেস্টেরল হার্টের জন্য ভালো-‘এইচডিএল’ কমে যায়। ‘এইচডিএল’ কমে গেলে খারাপ কোলেস্টেরল ‘এলডিএল’ বেড়ে যায়। অর্থাৎ ধীরে ধীরে হার্টঅ্যাটাকের দিকে ধাবিত হয়।
হার্টঅ্যাটাকের উপসর্গ
০ বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হওয়া। কখনো কখনো ঘাড়, চোয়াল, পিঠ বা হাতেও ব্যথা হতে পারে।
০ বুকে ব্যথা এমনভাবে রোগীরা বর্ণনা করেন যেন কোনো ব্যান্ড বুকের ওপর চাপ দিয়ে আছে। তবে ডায়াবেটিস রোগীরা কখনো কখনো হার্টঅ্যাটাকে এ ধরনের ব্যথার কথা নাও বলতে পারেন।
০ বুকের ব্যথার সঙ্গে প্রচণ্ড ঘাম হতে পারে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপসর্গ, যার দ্বারা বোঝা যায় হার্টঅ্যাটাকের প্রক্রিয়া চলছে।
হার্টঅ্যাটাক প্রতিরোধে করণীয়
হৃদরোগ প্রতিরোধযোগ্য এবং হৃদরোগের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দেয়া সম্ভব শুধু নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের মাধ্যমে। যে কোনো ধরনের স্ট্রেস এড়িয়ে চলুন। কর্মজীবনের সব ব্যস্ততার মধ্যেও মানসিক প্রশান্তির কিছু উপায় বের করে নিতে হবে। পরিমিত কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করুন এবং কম চর্বিযুক্ত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন।
ধূমপান ত্যাগ করা অত্যন্ত জরুরি। শুধু ধূমপান ত্যাগের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং নিয়মিত মনিটরিং করুন। রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখুন, বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত সজীবভাবে হাঁটার অভ্যাস করুন। কমপক্ষে ৪৫ মিনিট প্রত্যহ হাঁটাহাঁটি করুন। দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় ক্যালরির পরিমাণ কমিয়ে দিন। এ জন্য বেশি করে শাকসবজি, কাঁচা ফলমূল গ্রহণ করুন। চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করুন।
হার্টঅ্যাটাকের চিকিৎসায় ওষুধ
হার্টঅ্যাটাকের চিকিৎসায় জরুরিভাবে কিছু ওষুধ দেয়া হয়। রোগী প্রাথমিকভাবে বিপদমুক্ত হওয়ার পর আরো কিছু ওষুধ দেয়া হয়। হার্টঅ্যাটাকের পর যে ওষুধ দেয়া হয় তা দুইভাবে কাজ করেঃ ১· হার্টঅ্যাটাকে যে ক্ষতি হয় তা পুষিয়ে নিতে ওষুধ সাহায্য করে। ২· হার্টঅ্যাটাক-পরবর্তী জটিলতা প্রতিরোধে ওষুধ সাহায্য করে।
হার্টঅ্যাটাক-পরবর্তী জটিলতা এবং রোগের উপসর্গ কমাতে নিম্নলিখিত ওষুধ ব্যবহার করা হয়ঃ
০ নাইট্রেটঃ বুকে ব্যথা বা অ্যানজাইনা কমাতে সাহায্য করে। এ ওষুধটি করোনারি ধমনীকে প্রসারিত করে এবং রক্তের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিতে অক্সিজেন সরবরাহ বৃব্দি করে।
০ বিটা ব্লকারঃ এ ওষুধটি হার্টের গতি স্পন্দনকে পরিমিত রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। হার্টের নিজস্ব কাজের বোঝাকে সহজ করে দেয়। তাই যেমন অ্যানজাইনা কমাতে সাহায্য করে তেমনি হার্টঅ্যাটাক-পরবর্তী জটিলতা কমাতে সাহায্য করে।
০ অ্যাসপিরিন এবং ক্লোপিডোগ্লেরলঃ এ দুটি ওষুধ এন্টিপ্লাটিলেট হিসেবে কাজ করে এবং রক্তকে পাতলা রাখে। রক্তকে জমাট বাঁধতে বাধা দেয় বলে এ ওষুধ হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
০ স্টাটিনঃ রক্তের কোলেল্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া আরো কিছু কাজ করে যা হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। ভবিষ্যতে হার্টঅ্যাটাক প্রতিরোধে লিপিড প্রোফাইল নিম্নরূপ থাকা বাঞ্ছণীয়-
কোলেল্টেরল < ২০০ মিগ্রা/ডিএল
এলডিএল কোলেল্টেরল < ৭০ ডিএল
এইচডিএল > ৪০ ডিএল
ট্রাইগ্লিসেরাইড < ১৫০ ডিএল
উপরোক্ত কোলেল্টেরল মাত্রা অর্জন স্টাটিন ছাড়াও প্রয়োজন ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রয়োজনে ওষুধের সঠিক ব্যবহারে গস্নুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখা।


ডা: মোস্তফা জামান
বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
হৃদরোগ বিভাগ
দৈনিক ইত্তেফাক
০৮ এপ্রিল ২০০৮

সোমবার, ২৫ মে, ২০১৫





বুকে ব্যথা হলে কী করবেন ?



হৃদরোগ সারাবিশ্বেই মারণব্যাধি হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশে এই ঘাতক ব্যাধিকে এক সময় শুধু ধনীদের রোগ হিসেবে গণ্য করা হতো। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এ রোগ এখন ধনী-গরিব যে কোনো বয়সেই আঘাত করছে। যাদের আর্থিক সঙ্গতি আছে তারা বড় বড় হাসপাতালে অ্যানজিওগ্রাম, অ্যানজিওপ্লাষ্টি বা করোনারি আর্টারি বাইপাস সার্জারির মতো আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিতে পারছেন। কিন্তু যাদের আর্থিক সঙ্গতি নেই তাদের অনেকেই এইসব আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কিন্তু ঘাতক ব্যাধি ঠিকই কেড়ে নেয় জীবন। এসব রোগী জানেন না কেন তার হৃদরোগ হয়েছে। এই রোগ কীভাবে প্রতিরোধ করা যেত অথবা এখন কী করণীয়।
বুকে ব্যথা হৃদরোগের একটি বিপজ্জনক সংকেত বা উপসর্গ। সাধারণত বুকের বাম দিকে ব্যথা শুরু হয় বা বাঁ হাত, ডান হাত, উভয় হাত, দাঁত, ঘাড় বা উপর পেটে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় হৃদরোগের ব্যথাকে গ্যাষ্ট্রিকের ব্যথা ভেবে অনেকেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না বা বিলম্ব করেন, যা অনেক সময় মৃত্যুঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় রোগীরা স্হানীয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে সঠিক রোগ শনাক্ত হয় না। অনেক সময় দেখা গেছে, হার্টঅ্যাটাক হয়ে গেছে তিনদিন আগে কিন্তু রোগী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্পর্শে আরো আগে এলেই এ রোগের ঝুঁকি কমাতে পারত। মনে রাখবেন-বুকে ব্যথা হলে, শরীরে ঘাম হলে, বমি বমি লাগলে বা বমি হলে কালক্ষেপণ করবেন না। হাসপাতালের ইমার্জেসিতে অথবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন। বিলম্বে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। কারণ হার্টঅ্যাটাকে শতকরা ২৫ জন এক ঘণ্টার মধ্যে মারা যায়। যারা রয়ে গেল তাদেরও শতকরা ১৫ জন হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যায়। হার্টঅ্যাটাকে আক্রান্ত রোগী সময়মত হাসপাতালে পৌঁছলে ওষুধের চিকিৎসার পাশাপাশি আজকাল প্রাইমারি অ্যানজিওপ্লাষ্টি করা হয় যা আধুনিক বিশ্বে স্বীকৃত চিকিৎসা। বাংলাদেশেও অনেক চিকিৎসক প্রাইমারি অ্যানজিওপ্লাষ্টির মতো আধুনিক চিকিৎসা দিচ্ছেন। তবে এক্ষেত্রে হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা থাকা প্রয়োজন।
বয়স চল্লিশের উপরে গেলে আপনার সতর্ক হওয়া উচিত এবং জানা উচিত হৃদরোগের কোনো ঝুঁকিতে আপনি আছেন কি না। যেমন-উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসে ভুগছেন কি না? রক্তের চর্বির পরিমাণ বা লিপিজ প্রোফাইল কেমন? এছাড়া পরিবারে হৃদরোগজনিত সমস্যার ইতিহাস আছে কি না? তাই আপনার চিকিৎসকের কাছে জেনে নিন আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি আছে কি না বা হৃদরোগে ভুগছেন কি না? এ ব্যাপারে পরবর্তী করণীয় বা চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে বিশদভাবে আলোচনা করুন। মনে রাখবেন, হৃদরোগীদের আকস্মিক মৃত্যুর সম্ভাবনা থেকেই যায়। মাত্র কয়েক মিনিটে এই দুর্ভাগ্যজনক পরিণতি ঘটলেও এই মারাত্মক ব্যাধির উপসর্গ জেনেও প্রতিরোধ করা সম্ভব। এছাড়া যেসব রোগী ইতোমধ্যে একবার হার্টঅ্যাটাক বা আনষ্ট্যাবল অ্যানজাইনার শিকার হয়েছেন তাদেরও হঠাৎ মৃত্যুর ঝুঁকি আছে, যা এখনো সারাবিশ্বে এক বড় আতঙ্ক। যারা ইতোমধ্যে একবার হার্টঅ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের আবারো হার্টঅ্যাটাকে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি রয়ে যায়। আরেকটি ব্যাপার গুরুত্বপুর্ণ তা হলো এসব রোগী দ্বিতীয়বার বা পুনরায় হার্টঅ্যাটাকে আক্রান্ত হবার ভয়ে থাকায় মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এসব রোগীর মানসিকভাবেও সাহায্য করা উচিত। আর তাই চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে প্রয়োজন বন্ধুত্বপুর্ণ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক। রোগী যাতে তার চিকিৎসকের সঙ্গে খুঁটিনাটি সব সমস্যার কথা ভাগাভাগি করতে পারে। এ ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
হৃদপিন্ডের রক্ত সরবরাহকারী ধমনী বা করোনারি আর্টারিতে চর্বি ও অন্যান্য পদার্থের সংমিশ্রণে এথেরোসক্লোরোসিস হয়ে রক্তের অবাধ চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে। ফলে হৃদপিন্ডের ওই মাংসপেশিতে অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দেয়। এ অবস্হাকেই বলা হয় করোনারি আর্টারি ডিজিজ। কখনো কখনো করোনারি আর্টারি চর্বি বা কোলেষ্টেরল জমে আংশিক বা সম্পুর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অ্যালজাইনা থেকে হার্টঅ্যাটাক হতে পারে।
হৃদরোগের উপসর্গঃ বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা, শরীর ফুলে যাওয়া, শরীর নীল হয়ে যাওয়া ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।
হৃদরোগের ভয়াবহতা থেকে রেহাই পেতে নিম্নোক্ত সুপারিশ মেনে চলা উচিত-
--রক্তের চাপ বা ব্লাডপ্রেসার নিয়ন্ত্রণ রাখা
--ডায়াবেটিস বা ব্লাড গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখা
--এলডিএল বা খারাপ কোলেষ্টেরল ১০০ মিগ্রা নিচে রাখা
--শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখা
--ধুমপান ত্যাগ করা এবং
--কায়িক শ্রম বা প্রত্যহ হাঁটাহাঁটি করা।
বুকে ব্যথা হলে চিকিৎসকের উচিত রোগীর একটি ইসিজি করা। কখনো কখনো ইকোকার্ডিওগ্রাফিও করা হয়ে থাকে।
রোগীর ইমার্জেসি চিকিৎসা প্রয়োজন হলে অ্যাসপিরিন ৩০০ দিতে হবে। এছাড়া নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে জিহ্বার নিচে দেয়া লাগতে পারে। অন্যান্য আরো ওষুধ ক্ষেত্র বিশেষে বা রোগীর অবস্হাভেদে ব্যবহৃত হয়। যেমন-ক্লোপিডোগেরল, বিটা ব্লকার, এসিই ইনহিবিটর, ষ্ট্যাটিন হেপারিন। কখনো কখনো ষ্ট্রেপটোকাইনেজ দেয়া হয়ে থাকে। এছাড়া আজকাল জিপি ২বি ৩এ ইনহিবিটর ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখবেন, করোনারি আর্টারি ব্লকেজের ওপর নির্ভর করেই রোগের তারতম্য হয়ে থাকে। কখনো কখনো ওষুধের চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। আবার কখনো কখনো অ্যানজিওগ্রামের মাধ্যমে ব্লকেজের শতকরা হার জেনে করোনারি অ্যানজিওপ্লাষ্টি করা হয়। এছাড়া কখনো কখনো রোগী বুকে ব্যথার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে পৌঁছলে প্রাইমারি অ্যানজিওপ্লাষ্টি করা হয়। ব্লকেজের অবস্হা ভেদে কখনো কখনো বাইপাস সার্জারিও করা হয়।
বি.দ্র. এই লেখাটি ভারতের ম্যাক্স হার্ট এন্ড ভাসকুলার ইনষ্টিটিউটে ইন্টারভেনশন কার্ডিওলজিতে ফেলোশিপ করার সময় অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা হয়েছে।
**************************
ডা. এসএম মোস্তফা জামান
দৈনিক আমারদেশ, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০০৮
সহকারী অধ্যাপক, হৃদরোগ বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
চেম্বারঃ ল্যাবএইড লিমিটেড,
বাড়ি -১, রোড-৪, ধানমন্ডি, ঢাকা।

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০১৫


সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্যে সঠিক খাবার


বেশি বেশি চর্বি খেলেন, শাকসবজি মোটেই পছন্দ করেন না, আর ফাস্টফুড খেয়ে বেড়াচ্ছেন। চিকিৎসকের কাছে এসে বলছেন-হার্ট অ্যাটাক থেকে মুক্ত থাকার ওষুধ দিন। কিন্তু তাতে হার্ট অ্যাটাক এড়াতে পারবেন না। হার্ট অসুস্থ হবেই। তাই হার্টকে সুস্থ রাখার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও খাদ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া। কিছু কিছু খাবার যা হার্টের রোগ হওয়ার ঝুঁকি যেমন বাড়ায় তেমনি কিছু খাবার হার্টের জন্য উপকারী, দরকারিও বটে।

প্রচুর ফলমূল ও শাকসবজি খান। হার্ট সুস্থ থাকবে। কারণ, ফলমূল ও শাকসবজিতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকায় উচ্চরক্তচাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। উচ্চরক্তচাপ না হলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও কমে যায়। সুস্থ থাকবে হার্ট।
মাছের ডিম, মগজ, পনির, ডিমের কুসুম, মাখন যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। যদি প্রয়োজন না হয় পাতে বাড়তি লবণ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। দুধ খাবেন। কিন্তু ননি তোলা দুধ ও দই খান। হার্ট সুস্থ থাকবে।

মগজ বাদ দিয়ে বেশি বেশি মাছ খান। সামুদ্রিক মাছ আরও ভালো। কারণ, মাছের তেলে আছে ‘ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড’, যা হার্টের সুস্থতার জন্য বেশি প্রয়োজন। তাই বেশি মাছ খান। মাংস না খাওয়াই ভালো।

তবে সম্পূর্ণ নিষেধ নেই। সপ্তাহে একবার কম পরিমাণে খান, অর্থাৎ যতটুকু অভ্যস্ত তার অর্ধেকের চেয়ে কম খান। চর্বি সঙ্গে থাকলে তা ফেলে দিন। কখনোই মুরগির চামড়া খাবেন না। তাহলে হার্টে ও দেহে চর্বিও জমবে না। হবেন সুন্দর দেহের অধিকারী, আকর্ষণীয়।

গাঢ় সবুজ শাকসবজি, মাছ, শালগম, সয়াবিন, শুকনা শিমের বিচি বেশি খাবেন। এগুলোতে আছে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম। এই ম্যাগনেসিয়াম হার্টের সুস্থতা বাড়ায়।

যদি এই খনিজ পদার্থটির অভাব হয় তখন হার্টের রক্তনালি করোনারি ধমনি সংকুচিত হয়ে পড়ে হার্ট অ্যাটাক ত্বরান্বিত করে। যারা বেশি মানসিক চাপে থাকেন ও অতিরিক্ত পরিশ্রম করে, তাদের দেহ থেকে ম্যাগনেসিয়াম বেশি বের হয়ে যায় ও শরীরকে নিস্তেজ করে। তাই এই খনিজ পদার্থযুক্ত খাবার খেলে হার্টের সুস্থতা বাড়বে।

শিমের বিচি ও মটরশুঁটিতে থাকে ‘নিয়াসিন’ নামের ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, যা কোলস্টেরল কমিয়ে আনে অর্থাৎ মন্দ চর্বি অল্প ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন (এলডিএল) হ্রাস পায়। তাই বেশি করে খান। আবার বেশি ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন (এইচডিএল) দেহের জন্য উপকারী। ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার যেমন লেবু, আমলকী, কাঁচামরিচ, পেয়ারা, সবুজ শাকসবজি বেশি খেলে এইচডিএল বাড়ে।

হার্ট অ্যাটাক কমায়। তেমনি আঁশযুক্ত খাবার, ফল, সবজি, শস্যখাবার রক্তের চর্বি কমিয়ে আনে। অল্প-স্বল্প বাদাম খেতে পারেন। এটি অসম্পৃক্ত চর্বি। ভালো সয়াবিন তেল খান। কিন্তু টিনজাত বা প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। এগুলো বিপজ্জনক। টাটকা খাবার খান। দেহের উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। যতটুকু সম্ভব হাসুন। দুশ্চিন্তা বা উত্তেজনা নয়। সবার সঙ্গে গল্প করুন। গান গাইতে পারেন মনের আনন্দে। মজার বই পড়ুন। সঙ্গে পরিশ্রমও করুন। ভালো থাকবে দেহ। ভালো থাকবে মন।

**************************
লেখকঃ ডা· এস কে অপু
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ
ময়মনসিংহ চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়
দৈনিক প্রথম আলো, ২৬ ডিসেম্বর ২০০৮


পোষ্ট রাইটার- বাপ্পি খান

মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০১৫




হার্ট অ্যাটাকের আধুনিক চিকি‍‍‍‍তসা প্রাইমারি পিসিআই



চিরতরে চলে গেছেন চিত্রনায়ক মান্না। আর কখনোই তিনি প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হয়ে পর্দা কাঁপাবেন না। মান্নার আকস্মিক মৃত্যুর পর সর্বত্র একই আলোচনা। মান্নাকে কি বাঁচানো সম্ভব ছিল? মান্না তো বুকে ব্যথার সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে গিয়েছিলেন তবে কেন এই পরিণতি? মান্না কি আগে থেকেই হৃদরোগে ভুগছিলেন? বিদেশে পাঠালে কি মান্না বেঁচে যেতেন? এরকম অসংখ্য প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছি প্রতিনিয়ত। একজন কার্ডিওলজিষ্ট হিসেবে রোগীদের এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হয় একটি বিষয় নিশ্চিত যে, মান্না তার অসংখ্য ভক্তকে কাঁদিয়ে যেমন চলে গেছেন, তেমনি হৃদরোগের আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে ভাবিয়ে তুলেছেন তার ভক্তদের। কেউ কেউ ইউনাইটেড হাসপাতালে মান্নার ভুল চিকিৎসা হয়েছে-একথা বলতেও দ্বিধা করছেন না। পত্রিকায় দেখলাম, মান্নার পরিবার এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু আসলেই কি ভুল চিকিৎসা হয়েছিল? নাকি মারাত্মক এ হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী ছিল? হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মৃত্যুর আগপর্যন্ত চিত্রনায়ক মান্নার চারবার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়েছিল। মান্না বুকে ব্যথা নিয়ে গাড়ি চালিয়ে ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছলে ইসিজি ও আনুষঙ্গিক পরীক্ষার পর হার্ট অ্যাটাক শনাক্ত করা হয়। জরুরি বিভাগ থেকে তখন তাকে সিসিইউতে স্হানান্তর করা হয়। প্রাইমারি পিসিআই (একই সঙ্গে করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাম ও অ্যাঞ্জিওপ্লাষ্টি) করার জন্য প্রথমে মান্নার কাছে এবং পরে মান্নার ভাইয়ের কাছে সম্মতি চাওয়া হয়। সম্মতি না পেয়ে হার্টের জমাটবাঁধা রক্ত তরল করার জন্য ইনজেকশনের (ষ্ট্রেপটোকাইনেজ) মাধ্যমে থ্রোম্বোলাইজ করা হলেও তাতে কাজ হয়নি। আবারো পিসিআই করার সম্মতি চাওয়া হয় স্বজনদের কাছে। সম্মতি দেয়া হয়নি তখনো। এ অবস্হায় ১০টা ৩০ মিনিটে হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। সিপিআর ও ডিসি শকের মাধ্যমে মান্নার নিঃশ্বাস স্বাভাবিক করা হয়। কিন্তু কয়েক মিনিট পর দ্বিতীয়বার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর লাগানোর পর পিসিআই করার সম্মতি চান চিকিৎসকরা আবারো। এ অবস্হায় মান্নাকে বাঁচানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষায় বেলা ১১টায় সম্মতি দেয়া হলে টেমপোরারি পেসমেকার লাগানোর পর করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাম করা হয়। অ্যাঞ্জিওগ্রামে প্রধান ৩টি ধমনীতে ৩টি ব্লক শনাক্ত করে রিং (Stent) বসানো হয়। তৃতীয়বার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়। ২০ মিনিট পর চতুর্থবার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হলে ২টা ২৮ মিনিটে মান্নার মৃত্যু ঘটে। মান্নার যে ধরনের হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল, এই হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসায় প্রাইমারি পিসিআই আদর্শ এবং আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি। উন্নত বিশ্বে যা অত্যন্ত জনপ্রিয় চিকিৎসা পদ্ধতি। তবে বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে এ চিকিৎসা পদ্ধতি এখনো ততটা সফলতা পায়নি। করোনারি ধমনীতে শতকরা একশ’ ভাগ ব্লক হলেই কেবল হার্ট অ্যাটাক হয়; তাই যত দ্রুত সম্ভব reperfusion করা উচিত। কেননা বলা হয় Time is muscle অর্থাৎ প্রাইমারি পিসিআই হার্টের মাসল ঘবপৎড়ংরং রক্ষা করা। তবে Medical Contact to balloon ev door-to-balloon time নব্বই মিনিটের মধ্যে হতে হবে। অর্থাৎ রোগী যদি দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছতে পারে, সেই হাসপাতালে যদি প্রাইমারি পিসিআই করার সেটআপ থাকে, যদি দক্ষ ইন্টারভেনশন কার্ডিওলজিষ্ট থাকে তবেই প্রাইমারি পিসিআই করা হয়।

আমাদের দেশে এ চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো সচেতনা সৃষ্টি হয়নি। আমাদের দেশে এ চিকিৎসা পদ্ধতি হাতে গোনা কয়েকটি হাসপাতালে সম্ভব হচ্ছে; কারণ এ বিষয়ে দক্ষ ইন্টারভেনশন কার্ডিওলজিষ্টের সংখ্যা খুবই কম। আবার যেখানে কার্ডিওলজিষ্ট আছে, সেখানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা Technical Support নেই।
এ চিকিৎসা পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করে তুলতে হলে প্রয়োজন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং রোগীদের মাঝে আস্হা অর্জন।

এ আস্হা অর্জন শতকরা একশ’ ভাগ এখনো আমরা করতে পারিনি। তাই মান্নার কাছে সম্মতি চাওয়া হলে তিনি দেননি।

আমাদের দেশে হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসায় বেশিরভাগ হাসপাতালে ষ্ট্রেপটোকাইনেজ দিয়ে থ্রোম্বোলাইজ করা হয়। এ ইনজেকশনের মাধ্যমেই বেশিরভাগ রোগী সুস্হ হয়ে ওঠেন। প্রাইমারি পিসিআই’র মতো উপকার পাওয়া না গেলেও রোগীর মৃত্যুঝুঁকি কমে যায়। তবে এ ইনজেকশনও গোল্ডেন টাইমের মধ্যে দিতে হবে। দেরি করলে এ ইনজেকশনের সুফল থেকে বঞ্চিত হবেন রোগী। তাই বুকে ব্যথার পর বা হার্ট অ্যাটাকের পর দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে এবং চিকিৎসকদেরও দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও ভালো ট্রাসপোট ফ্যাসিলিটি না থাকলে বা door-to-balloon নব্বই মিনিটের বেশি হলে থ্রোম্বোলাইজ করা হয়। তবে ষ্ট্রেপটোকাইনেজের পরিবর্তে এখন আরো ভালো ইনজেকশন/ওষুধ অন্যান্য দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে।

থ্রোম্বোলাইজ করার জন্য ষ্ট্রেপটোকাইনেজ দিলে অনেক সময়ই কার্যকর হয় না অর্থাৎ ধমনীর জমাট রক্ত তরল হয় না। মান্নার ক্ষেত্রেও থ্রোম্বোলাইজ ব্যর্থ হয়েছিল।


ষ্ট্রেপটোকাইনেজ দেয়ার পর ক্লিনিক্যালি রোগীর উন্নতি না হলে কখনো কখনো Rescue PCI করা হয়। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাপী এখনো বিভিন্ন ট্রায়াল চলছে। কোনো কোনো ট্রায়ালে বলা হয়েছে, রেসকিউ পিসিআই হার্ট অ্যাটাক-পরবর্তী মৃত্যু রোধ করে এবং হার্ট ফেইল্যুর প্রতিরোধ করে। আবার কোনো কোনো ট্রায়ালে বলা হয়েছে, রেসকিউ পিসিআই করলে ষ্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি।

বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে কার্ডিয়াক চিকিৎসায় উন্নতির ধারাবাহিকতায় কয়েক যুগ পার করেছে। বেশিদিনের কথা নয়, যখন করোনারি এনজিওগ্রামের জন্য রোগীরা দেশের বাইরে চলে যেতেন। অথচ এখন সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও প্রাইভেট সেক্টরগুলো হৃদরোগ চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্হার প্রতি আস্হা শতভাগ উন্নীত করতে হবে। সিঙ্গাপুর অত্যন্ত ছোট একটি দেশ। সিঙ্গাপুরের মানুষ সে দেশে সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাই চিকিৎসক, রোগী এবং চিকিৎসা ব্যবস্হায় সরকারের ভুমিকা জোরদার হওয়া উচিত।

হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা বিষয়ে, বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সরকারি তত্ত্বাবধানে, একটি জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্হা গাইড লাইন থাকা দরকার। যেমন জাপানে হার্ট-অ্যাটাকের চিকিৎসায় কি ধরনের ওষুধ ব্যবহার হবে কিংবা Primary PCI তে কী ধরনের Stent বা রিং ব্যবহার হবে তার একটি গাইড লাইন আছে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলো বেশির ভাগই ঢাকা কেন্দ্রিক তাই বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন। আরেকটি বিষয় চিকিৎসা সেবা বা খরচের ব্যাপারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। প্রয়োজনে এমন টেকনোলজি উদ্ভাবন প্রয়োজন যার উপকরণ ও তৈরি আমাদের দেশেই সম্ভব।
হৃদরোগ চিকিৎসার (Stenting) ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বা সাধারণ রোগীদের দিতে না পারলে রোগী এবং চিকিৎসকের মধ্যে কখনোই আস্হার বন্ধুত্ব হবে না। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা সরকারের বিস্তৃত ভাবনা প্রয়োজন। শুধু চিকিৎসা বিষয়ক যন্ত্রপাতি আমদানিতে সরকারের উদার হওয়া উচিত বলেই ক্ষান্ত হওয়া উচিত নয়।

বুকে ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের একটি বিপজ্জনক সংকেত বা উপসর্গ। তবে ডায়াবেটিক রোগীরা সবসময় বুকে ব্যথা অনুভব নাও করতে পারেন। এটি আরো মারাত্মক। অনেকে হৃদরোগের ব্যথাকে গ্যাষ্ট্রিকের ব্যথা ভেবে চিকিৎসকের শরণাপণ্ন না হয়ে নিজে নিজেই এন্টাসিড জাতীয় ওধুষ খেতে থাকেন। চিকিৎসকের স্পর্শ পেতে এই বিলম্ব কখনো কখনো হার্ট অ্যাটাকের মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়। মনে রাখবেন বুকে ব্যথা হলে, শরীরে ঘাম হলে, বমি বমি লাগলে বা বমি হলে, কালক্ষেপণ করবেন না। হাসপাতালের ইমার্জেসিতে বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপণ্ন হবেন। বিলম্বে মৃত্যুর ঝুকি বেশি। কারণ গবেষণার দেখা গেছে, হার্টঅ্যাটাকে শতকরা ২৫ জন এক ঘণ্টার মধ্যে মারা যায়। বাকি রোগীদের শতকরা ১৫ জন হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যায়। হার্টঅ্যাটাকের উপসর্গ হলে অ্যাসপিরিন ৩০০ মি. গ্রাম এবং ক্লোপিডোগ্রেল ৩০০ মিগ্রা (৭৫ গ্রামের ৪টি বড়ি) এক সঙ্গে খেতে হবে। এছাড়া বুকে চাপ বা ভার ভার অনুভুত হলে, রক্তচাপ থাকলে নাইট্রোমিন্ট স্প্রে (২ চাপ) জিহ্বার নিচে দেবেন। হার্টঅ্যাটাকে আক্রান্ত রোগী সময়মত হাসপাতালে পৌঁছলে ওষুধের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রাইমারি পিসিআই করা হয়। হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকিকে এখন আর বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না। তবু চল্লিশের উপরে প্রত্যেক পুরুষ এবং মহিলার জানা প্রয়োজন কোনো ঝুঁকিতে আপনি আছেন কিনা। যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তের চর্বির পরিমাণ বা লিপিড প্রোফাইল ইত্যাদি। এছাড়া ধুমপান, তামাক, শারীরিক স্হুলতা, পারিবারিক হৃদরোগের ইতিহাস ইত্যাদি জেনে সতর্ক হওয়া উচিত। কেননা হার্টঅ্যাটাকের চিকিৎসার চেয়ে হার্টঅ্যাটাক প্রতিরোধই উত্তম।
*************************
ডা. এস এম মোস্তফা জামান
লেখকঃ সহকারী অধ্যাপক, হৃদরোগ বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ফেলো -ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি ম্যাক্স হার্ট এন্ড ভাসকুলার ইনষ্টিটিউড, নিউ দিল্লী, ইন্ডিয়া। চেম্বারঃ ল্যাবএইড লিমিটেড
বাড়ি-১, রোড-৪, ধানমন্ডি, ঢাকা।
আমার দেশ, ১৫ মার্চ ২০০৮

সোমবার, ১১ মে, ২০১৫



রক্তে চর্বি যখন ক্ষতিকর


আমাদের রক্ত ও ফ্যাট সেলে (চর্বির কোষে) ট্রাইগিস্নসেরাইড পাওয়া যায়।
রক্তে এর স্বাভাবিক মাত্রা হচ্ছে ১৫০ মিলিগ্রাম ডিএল। এর মাত্রা ২০০
মিলিগ্রাম ডিএল এর বেশি হলে ঝুঁকি নির্দেশ করে এবং কারো কারো রক্তে এর
মাত্রা আরো বেশি, যেমন ৩৫০, ৪০০, ৫০০, ৫৫০ মিলিগ্রাম ডিএল এমন কি এর
বেশিও দেখা যায়। রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইডের আধিক্যে হ্নদপিন্ড ও
প্যানক্রিয়াসের জন্য ঝুঁকি বহন করে, ফলে হ্নদরোগের সম্ভাবনা বাড়ে।
রক্তে অধিক ট্রাইগিস্নসেরাইডের কারণঃ

(১) জীবনযাত্রাঃ কায়িক পরিশ্রম কম, শরীরের অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান, অনেক
সময় ধরে না খেয়ে থাকা এবং এক সাথে বেশি খাবার গ্রহণ করা।
(২) খাদ্যাভ্যাসঃ অতিরিক্ত মদ্যপান, স্যাচুরেটেড ফ্যাট (সম্পৃক্ত চর্বি)
গ্রহণ, ট্রাণ ফ্যাট (আগুনের তাপে ভাজা/রান্না খাবার), চিনি, স্টার্চ
(আলু, ভাত ও ভাতের মাড়) এবং অধিক ক্যালরিযুক্ত খাবার। এই সমস্ত্য খাবার
রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইডের মাত্রা বাড়ায়।
(৩) রোগের ইতিহাসঃ
১· ডায়াবেটিস কন্ট্রোল না থাকলে। অর্থাৎ, রক্তে গস্নুকোজের পরিমাণ
অত্যাধিক বেড়ে গেলে ট্রাইগিস্নসেরাইডের পরিমাণ বাড়ে।
২· পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রম (পিসিওএস)।
৩· কিডনি রোগ হলে।
৪· একই পরিবারে এই রোগের প্রবণতা থাকলেও অন্যদের রক্তে
ট্রাইগিস্নসেরাইডের মাত্রা বেড়ে যায়।
যে সমস্তô খাবার রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইড এর মাত্রা বাড়ায়
১· এলকোহল সমৃদ্ধ পানীয়।
২· স্যাচুরেটেড ফ্যাটঃ (সম্পৃক্ত চর্বি) প্রাণিজ চর্বিসহ অন্যান্য চর্বি
যেমন মাখন, ডালডা এমন কি তেলে ভাজা খাবার। পূর্ণ চর্বিমুক্ত দুধ। পূর্ণ
চর্বিযুক্ত দুধের তৈরি খাবার পনির, ক্রিম, গরম্ন ও খাসীর মাংস এবং ফাস্ট
ফুড।
৩· ট্রান্সফ্যাস্টঃ হাইড্রোজিননেটেড ফ্যাট আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর
হাইড্রোজিননেটেড ফ্যাট যে খাবারগুলোতে পাওয়া যায় মার্জারিন, ভাজা
খাবার, ফাস্ট ফুড, পেস্ট্রি, কেক, পাই, ক্রেকার্স ইত্যাদি আমাদের রক্তে
ট্রাইগিস্নসেরাইডের মাত্রা বাড়ায়।
চিনিঃ বিভিন্ন মিষ্টি জাতীয় খাবার যার মধ্যে উচ্চ ঘনত্বের চিনি থাকে
যেমনঃ চিনি, মধু, সিরা, জ্যাম, জেলী, কেনডি। এছাড়াও বিভিন্ন মিষ্টি খাবার
যেমনঃ পাই কেক, কুকিজ, আইসক্রিম, দই, মিষ্টি, সেমাই, পুডিং, পায়েস-এ
সমস্ত খাবার খেলে রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইডের পরিমাণ বাড়ে এবং যাদের
ইতিমধ্যে রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইডের পরিমাণ বেশি তাদের এসব খাবার পরিহার
করতে হবে।
পানীয়ঃ ফলের জুস, কোমল পানীয়, ফ্রুট, পাঞ্জেস, সোডা, মিষ্টি কেক ও চিনির শরবত।
রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইডের পরিমাণ বাড়ায়।
অন্যান্য খবরঃ বিভিন্ন ঘন খাবার যেমনসৈজি, এনার্জি চকলেটবার রক্তে
ট্রাইগিস্নসেরাইডের পরিমাণ বাড়ায়।
ষ্টার্চ যুক্ত ঘন খাবারের মধ্যে আরো রয়েছে ভাত, পান্তা, আলু, বড় রোল,
পিজা, পপকর্ণ, খিচুড়ি, জাউভাত, এগুলো বেশি পরিমাণে খেলে রক্তে
ট্রাইগিস্নসেরাইডের পরিমাণ বাড়ে।
রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইড নিয়ন্ত্রণ
সবচেয়ে ভালো স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বাছাই করতে হবে।
সঠিক খাবার।
ফলঃ মৌসুমী ফলের সবচেয়ে ভালো গন্ধ, স্বাদ ও পুষ্টি থাকে। ফলের জুস না
খেয়ে গোটা ফল কেটে খাওয়া ভালো কারণ বাজারের প্যাকেটজাত ফলের জুসে চিনির
মাত্রা বেশি।
সবজিঃ প্রতিদিন কমপড়্গে ৩ কাপ অথবা তারও বেশি সবুজ ও রঙিন শাক-সবজি খেতে
হবে। সবজি প্রস্তুতকরণে বৈচিত্র্য এনে খাবারের রম্নচি ও আগ্রহ বাড়াতে
হবে।
আটাঃ ধবধবে সাদা ময়দার রম্নটি না খেয়ে লাল আটার রম্নটি খাওয়া ভালো। কারণ
ময়দা রক্তে চিনি পরিমাণ দ্রম্নত বাড়ায় এবং অধিক ময়দা গ্রহণে রক্তে
ট্রাইগিস্নসেরাইডের পরিমাণও বাড়ে।
প্রোটিনঃ
১· কম চর্বিযুক্ত মাংস নির্বাচন করতে হবে।
২· রান্নার আগে মুরগির চামড়া ফেলে দিতে হবে।
৩· ডিমের সাদা অংশে কোন চর্বি থাকে না।
৪· ডাল দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রোটিন হলেও এর মধ্যে আঁশ-এর ভাগ বেশি যা
ট্রাইগিস্নসেরাইড কমাতে সাহায্যে করে।
৫· সপ্তাহে কমপক্ষে দুই থেকে তিনদিন মাছ খাওয়া ভালো, সামুদ্রিক মাছ
রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইড কমায়।
দুগ্ধজাত খাবারঃ চর্বিবিহীন দুধ অথবা ১% চর্বি দুধ অথবা কম চর্বিযুক্ত
দুধের দই (চিনি ছাড়া) খেতে হবে।
চর্বিঃ
১· প্রতিদিন জনপ্রতি ৩ চা চামচ তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।
২· ডালডা ও ঘি পরিহার করতে হবে।
চিনি ব্যবহারে খুব সতর্ক হোন, চিনি ছাড়া খাবার নির্বাচন করম্নন।
ট্রাইগিস্নসেরাইড কমানোর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নির্দেশিকাঃ
১· প্রতিদিন ৬ বার অল্প অল্প করে খাবার গ্রহণ করম্নন।
২· ৩০ মিঃ করে সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন হাঁটুন।
৩· আপনি যদি অধিক ওজনের অধিকারী হন তবে জেনে নিন আপনার বয়স ও উচ্চতার
তুলনায় আপনার আদর্শ ওজন কত? বাকিটুকু কমিয়ে ফেলুন।
৪· বেশি করে আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করম্নন।
৫· ডুবু তেলে ভাজা খাবার আজ থেকেই ছেড়ে দিন।
৬· আপনি যদি ডায়াবেটিকে আক্রান্তô হন তবে অবশ্যই রক্তে গ্লুকোজের(চিনি) মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করুন, অন্যেরাও সতর্ক হোন।
৭· ধূমপান আর না।
৮· প্রতিদিন ১০-১২ গস্নাস বিশুদ্ধ পানি গ্রহণ নিশ্চিত করম্নন।

*********************************
লেখকঃ এসএন শম্পা,
কনসালটেন্ট নিউট্রিশনিস্ট, অতিরিক্ত ওজন কমানো ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ
চেম্বারঃ শমরিতা হাসপাতাল লিঃ, ৮৯/১, পান্থপথ, ঢাকা।
উৎসঃ দৈনিক ইত্তেফাক, ১১ নভেম্বর ২০০

রবিবার, ১০ মে, ২০১৫


মানসিক চাপ থেকে হার্ট এ্যাটাক


মানসিক চাপ থেকে হার্ট এ্যাটাক


মানসিক চাপ বা স্ট্রেস অতিমাত্রায় বাড়লে এবং তা দীর্ঘস্থায়ী হলে হার্ট
এ্যাটাক, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, কোলেস্টারল বৃদ্ধি ইত্যাদি
বিভিন্ন মেটাবলিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। বিজ্ঞানীদের
মতে স্ট্রেস বা মানসিক চাপের কারণে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশ
পিটুইটারী নামের অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিকে উজ্জীবিত করে, যা দ্রুত
অ্যাড্রিনাল নামক গ্রন্থিকে অতিমাত্রায় কর্টিসোল নামের স্ট্রেস হরমোনের
নিঃসরণে উদ্দীপ্ত করে। রক্তে কর্টিসোলের মাত্রাবৃদ্ধির কারণে বিপাকীয়
কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়- কেউ কেউ অতিরিক্ত আহারে অভ্যস্ত হয়। স্ট্রেস
মোকাবিলায় ধূমপান, মদ্যপানে আসক্ত হয় এবং সক্রিয় জীবন-যাপন থেকে নিজেকে
গুটিয়ে নেয়। এসব কারণে স্থূলতা বাড়ে মেদভুঁড়ির সৃষ্টি হয়, যা পরিণামে
ঝুঁকিপূর্ণ রোগের জন্ম দেয়। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা তাই মানসিক চাপ
স্ট্রেস এড়াতে উপদেশ দিয়েছেন।
**************************
উৎসঃ দৈনিক নয়াদিগন্ত, ০২ ডিসেম্বর ২০০৮

শনিবার, ৯ মে, ২০১৫


নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালনকে হ্যাঁ বলুন


বিভিন্ন সময় আমাদেরকে রুগীর জীবন রক্ষার্থে রক্ত পরিসঞ্চালিত করতে হয়।
রক্ত পরিসঞ্চালন মানে হচ্ছে, একজনের দেহ থেকে রক্ত নিয়ে সেই রক্তের গ্রুপ
ও আর এইচ ফ্যাক্টর দেখে এবং ক্রস ম্যাচিং করে একই গ্রুপধারী অন্য কোনো
ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করানো। একজন সুস্খ সবল ব্যক্তি যার বয়স ১৮-৫০ এর
মধ্যে তিনি প্রতি চার মাস অন্তর এক ব্যাগ রক্ত মুমূর্ষু ব্যক্তির জীবন
বাঁচাতে দান করতে পারেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এ ব্যাপারে আমাদের
দেশের মানুষ ততটা সচেতন নয়। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আমাদের দেশে
প্রতিবছর রক্তের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ ব্যাগ। এই চাহিদার বেশ বড় একটা অংশই
যোগান দেয় পেশাদার রক্ত বিক্রেতারা। এসব লোক থাকে নেশাগ্রস্ত এবং বিভিন্ন
রোগে আক্রান্ত। এরা অত্যন্ত নিচু শ্রেণীর অর্থনৈতিক লোক হওয়ায় এদের রক্তে
হিমোগ্লোবিনের মাত্রাও কম থাকে। এদের রক্ত দিলে রক্ত পরিসঞ্চালিত করে বহু
লোক আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছেন এইডস, হেপাটাইটিস, সিফিলিস, ম্যালেরিয়াসহ
বিভিন্ন রোগে।
এ জন্য বিশ্ব স্বাস্খ্য সংস্খা বা (WHO) রক্ত পরিসঞ্চালনের আগে এর পাঁচটি
স্ক্রিনিং টেস্ট বাধ্যতামূলক করেছে। এই টেস্ট পাঁচটি হচ্ছে ­
(১) Hhs Ag (হেপাটাইটিস বি আছে কি না দেখার জন্য)।
(২) HCV (হেপাটাইটিস সি আছে কি না দেখার জন্য)।
(৩) VDRL ( সিফিলিসের জীবাণু আছে কি না দেখার জন্য)।
(৪) HIV (এইডসের জীবাণু আছে কি না দেখার জন্য)।
(৫) MP (ম্যালেরিয়া আছে কি না দেখার জন্য)।
তাই, রক্ত পরিসঞ্চালনের আগে উপরোক্ত পাঁচটি স্ক্রিনিং টেস্ট করানো হয়েছে
কি না তা অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নেবেন। স্ক্রিনিং ছাড়া কখনো রক্ত নেবেন না,
এমন কি আপনার অতি আপনজনেরও যদি হয় তাহলেও না । কারণ তার রক্তেও যুক্ত
থাকতে পারে মারণঘাতী কোনো রোগের জীবাণু, যা সে নিজেও জানে না হয়তো বা।
তাই, দূষিত রক্ত গ্রহণকে না বলুন, নিরাপদ রক্ত গ্রহণকে হ্যাঁ বলুন।

*************************
লেখকঃ ডা. এম এম নওশের
উৎসঃ দৈনিক নয়াদিগন্ত, ২৫শে নভেম্বর ২০০৭

শুক্রবার, ৮ মে, ২০১৫




রক্ত পরিসঞ্চালন এবং আরএইচ নেগেটিভ রক্তের গুরুত্ব


জীবনের আরেক নাম রক্ত| প্রতিবছর আমাদের দেশে দুই থেকে আড়াই লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয় মুমূষু রোগীকে বাঁচাতে| এই রক্ত আমরা পেয়ে থাকি দাতার কাছ থেকে| রক্তের কোনো বিকল্প নেই| মানুষের জন্য মানুষই রক্তের একমাত্র জোগানদাতা|  রক্ত পরিসঞ্চালনের ইতিহাস অনেক পুরোনো| মেডিসিন যুগের বহু আগে থেকেই সভ্য সমাজ মনে করত, রক্ত হচ্ছে জীবনের উৎস| আদিবাসীদের মধ্যে এই ধারণা ছিল যে তাদের সবার রক্ত একই রকম| তারা মানুষের ও জন্তুর রক্তের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে বলে বিশ্বাস করত না| তখন রক্ত পরিসঞ্চালনের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতিও ছিল না| রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ায় এর অগ্রগতি ছিল সীমিত|  ১৬৬৫ সালে ইংরেজ বিজ্ঞানী ডা· রিচার্ড লোয়ার (ফিজিওলজিস্ট) প্রথম রক্ত পরিসঞ্চালন করেন| ১৬৬৭ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী জিন বয়েপটিস্ট ডেনিস প্রথম মানুষের মধ্যে রক্ত সঞ্চালন শুরু করেন| প্রথম তিনবার তিনি সফলতার সঙ্গে রক্ত পরিসঞ্চালন করেন| যখন ভেড়ার রক্ত মানুষের মধ্যে সঞ্চালনের প্রক্রিয়ায় এক মানসিক রোগী মারা যায়, তখন মানুষ খুন করার অপরাধে আদালত ওই বিজ্ঞানীকে দোষী সাব্যস্ত করেন| এতে পুরো ইউরোপে রক্ত পরিসঞ্চালন গবেষণা বন্ধ হয়ে যায় উনিশ শতক পর্যন্ত|   জেমস বান্ডেল নামে লন্ডনের এক ধাত্রীবিদ্যা-বিশেষজ্ঞ মৃতুøপথযাত্রী প্রসূতিকে বাঁচাতে মানুষের রক্ত সরাসরি রোগীর দেহে সঞ্চালন করে তার জীবন রক্ষা করেন| এতে এটাই প্রমাণিত হয় যে মানুষের ও অন্যান্য প্রাণীর রক্ত আলাদা|  এর পরও অসুবিধা রয়েই গেল| আর তা হচ্ছে হেমোলাইটিক ট্রান্সফিউশন রি-অ্যাকশন ও দাতার রক্ত খুব তাড়াতাড়ি জমাট বেঁধে যায়| উনিশ শতকে ল্যান্ড স্টেইনার এবিও ব্লাড গ্রুপের আবিষ্কারের ফলে ট্রান্সফিউশন রি-অ্যাকশন অনেকটাই কমে যায়| ১৯৩৯ সালে লেভিন ও স্টেটসন দেখলেন, এক প্রসূতি মৃত বাচ্চা প্রসব করার পর যখন তাঁর শরীরে স্বামীর রক্ত পরিসঞ্চালন করা হলো, তখন এতে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হলো| পরীক্ষা করে দেখা গেল, স্বামীর শরীরে যে অ্যান্টিবডি আছে, সেটা এবিও ব্লাড গ্রুপের ৮৫ শতাংশ রক্তকণিকা জমাট বাঁধার জন্য যথেষ্ট| ১৯৪০ সালে ল্যান্ড স্টেইনার ও উইনার এক পরীক্ষায় গিনিপিগ ও খরগোশের দেহে রেসাস বানরের রক্ত ঢুকিয়ে দেওয়ায় যে অ্যান্টিবডি তৈরি হলো, সেটা শুধু বানরের ও ৮৫ শতাংশ ইউরোপীয়র রক্ত জমাট বাঁধাতে সক্ষম| যাদের রক্ত জমাট বাঁধল, তারা পরে আরএইচ পজিটিভ ব্লাড গ্রুপ হিসেবে চিহ্নিত হলো; আর যাদের রক্ত জমাট বাঁধল না, তারা আরএইচ নেগেটিভ হিসেবে রয়ে গেল| আমাদের দেশে ৯৭ শতাংশ মানুষের রক্ত আরএইচ পজিটিভ এবং তিন শতাংশের আরএইচ নেগেটিভ| এই তিন শতাংশ নিয়ে আমাদের এত মাথাব্যথা কেন? এ জন্য যে এই তিন ভাগের অর্ধেক আবার নারী| আরএইচ নেগেটিভ মা যদি আরএইচ পজিটিভ সন্তান ধারণ করেন, তাঁর শরীরে ভ্রূনের শরীর থেকে লোহিত কণিকা প্লাসেন্টা বা গর্ভফুলের মাধ্যমে মায়ের শরীরে প্রবেশ করে অ্যান্টি-ডি নামের অ্যান্টিবডি তৈরি করে| সেই অ্যান্টিবডি আবার গর্ভফুলের মাধ্যমে ভ্রূনের শরীরে ঢুকে হেমোলাইটিক রক্ত পরিসঞ্চালনের প্রতিক্রিয়া করে ভ্রূনকে মেরে ফেলে| পরে ওই মা যদি প্রথম থেকেই চিকিৎসা না নেন, তাহলে তিনি আর কোনো দিন জীবিত শিশুর জ্ন দিতে পারেন না|  যখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটে রক্তের গ্রুপিং অথবা ক্রস ম্যাচিংয়ের সময় থাকে না, সে ক্ষেত্রে মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচানোর জন্য আমরা ও-নেগেটিভ রক্ত দিয়ে থাকি| প্রয়োজনের তুলনায় রক্তের সরবরাহ খুবই কম| গ্রুপের নিরাপদ এক ব্যাগ রক্তের প্রয়োজনে ছুটতে হয় শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে, এক জেলা ছেড়ে অন্য জেলায়| প্রয়োজন যেহেতু যুক্তি মানে না, তাই রক্তদাতা অপরিচিত মানুষটিও তখন হয়ে যায় পরম আত্মীয়, স্বাজনরের চেনা| নেগেটিভ গ্রুপের রক্তস্বল্পতার কারণে এখন সময় এসেছে এই গ্রুপের রক্তের দাতা তৈরি করার| ভবিষ্যৎ প্রজ্নকে সচেতন করতে পারলে এ সমস্যা অনেকটাই দূর করা সম্ভব| 

লেখকঃ ডা· মাসুদা বেগম
 সহযোগী অধ্যাপক,
 হেমাটোলজি বিভাগ 
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
 উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো, ৩১, অক্টোবর ২০০৭

বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০১৫



হৃদরোগ প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা সুস্থ হার্ট, সুন্দর জীবন| আর সুন্দর জীবনের প্রত্যাশা সবার| বাংলাদেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষের বিভিন্ন ধরনের হূদরোগ রয়েছে| আর বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রয়েছে অকালে হৃদরোগ হওয়ার প্রবণতা| তাই হার্টের সমস্যাকে ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই| যদিও বাংলাদেশে হূদরোগের চিকিৎসার খরচ পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশের তুলনায় সহনীয় পর্যায়ে আছে, তবু এ চিকিৎসাসেবা এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই রয়ে গেছে| আর যেহেতু সরকারি চিকিৎসাসেবার অবকাঠামোর মাধ্যমে সব লোকের চিকিৎসা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, তাই অন্যান্য রোগের মতো হূদরোগ প্রতিরোধের দিকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে| আর এ জন্য প্রয়োজন ব্যাপক গণসচেতনতা| বেতার ও টেলিভিশনে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় নিয়মিত| কিন্তু এ অনুষ্ঠানগুলো হয় এমন সময়, যখন সবাই কর্মব্যস্ত থাকে| ফলে এ অনুষ্ঠানগুলোর দর্শক-শ্রোতাও বেশি থাকে না|
রোগ নির্ণয় বা রোগের ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার জন্য অনুষ্ঠান নয়, কারণ রোগী না দেখে শুধু সামান্য বর্ণনা শুনে চিকিৎসার পরামর্শ দিলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে| আর দর্শক-শ্রোতারাও অন্যের উপসর্গের সঙ্গে নিজের উপসর্গ মিলিয়ে নিজেই নিজের চিকিৎসক (!) বনে যেতে পারেন| আর এ দেশে ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই খুব সহজে ওষুধ কেনা ও সেবন করা সম্ভব|
১৫ কোটি জনসংখ্যার এ দেশে সমস্যার কোনো শেষ নেই| ‘নুন আনতে পান্তা ফুরোয়’-এমন লোকের কাছে চিকিৎসাসেবা অনেক দূরের বিষয়| নি্নমধ্যবিত্ত বা নি্ন আয়ের মানুষেরা সব সময় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারে না বা হলেও অনেক সময় ওষুধ কিংবা অন্য ধরনের চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থন তাদের থাকে না| পানি ফুটিয়ে পান করা বা ভালো করে হাত ধোয়ার গুরুত্ব যেমন প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছানো গেছে, তেমনি হূদরোগ প্রতিরোধের জন্য কী করা দরকার তাও তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে| সামান্য অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে যে বাতজ্বর ও বাতজ্বর-সংক্রান্ত অন্য অসুখ থেকে বাঁচা সম্ভব, তা জনসাধারণকে জানাতে হবে|
সুস্থ হার্ট নিয়ে বাঁচতে চাইলে তেল, চর্বি, লবণ-এগুলো কম খেতে হবে| উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে| ধূমপান, গুল, জর্দা, সাদাপাতা সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে| শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে বা মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে হলে এগুলো জানা জরুরি| বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় হূদরোগের প্রকোপ অন্যান্য দেশের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি| হার্ট অ্যাটাকে যাঁরা আক্রান্ত হন, তাঁদের মধ্যে ২৫ শতাংশেরই বয়স চল্লিশের নিচে| আর ৫০ শতাংশের বয়স পঞ্চাশের নিচে|
এটা আমাদের জন্য একটা বিপদসংকেত| ঢাকাসহ বড় বড় শহরে শুধু হাতে গোনা কয়েকটি হাসপাতালে হৃদরোগের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা আছে| অনেক জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় সুচিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না| আবার কোথাও রয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব| তাই অকালমৃত্যু রোধে আমাদের একজোট হয়ে হূদরোগ প্রতিরোধ করতে হবে| এ জন্য জনসচেতনতা বাড়াতে হবে, আর এ দায়িত্ব সমাজের সব সচেতন মানুষের|
************************************* লেখকঃ ডা· এম এইচ মিল্লাত কনসালট্যান্ট কার্ডিয়াক সার্জন স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো, ২১ নভেম্বর ২০০৭

রবিবার, ৩ মে, ২০১৫


আমাদের স্বাস্থ্য


আমাদের দৈনন্দিন জিবনে আমরা বেশির ভাগ সময়ই কর্ম ব্যস্ততায় কাটালেও আমাদের স্বাস্থ্যের প্রতি কতটা নজর দিই সেটা এখন ভাববার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। আমাদের অনিয়ন্ত্রিত জিবন-যাপন, খাদ্যাভ্যাস  ও অসচেতনার কারণে হঠাত করেই অনাকাঙ্খিত দূর্ঘটনা বা স্ট্রোকের মত আততায়ীর হাতে মৃত্যুবরণ করে আমাদের স্বজনরা আমাদের কে কাঁদিয়ে চলে যায় অথচ একটুখানি সচেতন হলে ও আমাদের দৈনন্দিন জিবনে কিছুটা স্বাস্থ্যসম্মত নিয়ন্ত্রণ আনলেই এ অপমৃত্যু রোধ করতে পারি সহজেই। এর জন্য আমাদের চাই সঠিক গাইডলাইন ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।
আজ থেকে আমি চেষ্টা করবো ধারাবাহিক ভাবে আমাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা মূলক পোষ্ট করার। এতে থাকবে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রোগ, ঝুকিঁ, রোগ ণির্ণয়, প্রতিকার, শরীরের যত্ন ও চিকিতসা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ। এখানে আমরা ধারাবাহিক জানতে পারবো আমাদের শরীরের আলাদা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রোগ, ঝুকিঁ, রোগ ণির্ণয় ও প্রতিকারএজন্য আমরা আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আলাদা ভাবে চিহ্ণিত করে বিশেষভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করবো যেমন, ১।নাক, কান ও গলা ২।হৃদযন্ত্র, রক্ত ও রক্তসংবহনতন্ত্র ৩।ফুসফুস ও শ্বাসনালী ৪।পাকস্থলী ও পরিপাকতন্ত্র ৫।কিডনী ও মুত্রসংবহনতন্ত্র ৬।লিভার ৭।চোখ ৮।দাঁত ও মাড়ি ৯।নখ ও চুল ১০।মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র ১১।প্রোস্টেট গ্লান্ড ১২।মাংসপেশী ১৩।হাত ও পা ১৪।হাড় ১৫।ত্বক ১৬।মুখ ও জিহ্ববা ১৭।শিশুর স্বাস্থ্য ১৮।নারীর স্বাস্থ্য ১৯।পুরুষের স্বাস্থ্য ২০।প্রসূতির স্বাস্থ্য ২১।মানসিক স্বাস্থ্য ২২।বয়:সন্ধি ২৩।বার্ধক্যের সাধারণ সমস্যা ২৪।শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস ২৫।মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার ২৬।পরিবার পরিকল্পনা ২৭।ভেষজ সম্পদ ২৮।হেলথ্‌ টিপ্‌স ২৯।ঘুম ৩০।রোগ, কারণ ও প্রতিরোধ ৩১।ক্যান্সার ৩২।সমস্যা ও সমাধান ৩৩।খাদ্য ও পুষ্টি ৩৪।আধুনিক চিকিতসা ৩৫।স্বাস্থ্য সংবাদ ৩৬।সতর্কতা অন্যান্য এবং ৩৭।ব্যক্তিত্ব।