what is my ip address?

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

সুস্থ ও সুন্দর জিবন গড়তে আমাদের স্বাস্থ্য

এই প্রশ্নগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ! কেন এড়িয়ে চলবেন তেল, চর্বি, ভাজা-পোড়া, সফ্‌ট ড্রিংকস?

মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০১৫



হিমোফিলিয়াঃ বংশগত রক্তরোগ 

হিমোফিলিয়া:
একটি জন্মগত, বংশগত রক্তরোগ, যা মা-বাবার কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে জিনের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। জিন হচ্ছে এক ধরনের প্রোটিন। মানুষের গায়ের রং, চুল, সর্বোপরি পূর্ণতা প্রাপ্তিতে যা কিছু দরকার, সবই এই জিনের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত হয়ে থাকে। ৩০ শতাংশ হিমোফিলিয়া রোগীর ক্ষেত্রে মা-বাবার কাছ থেকে সঞ্চালিত হওয়ার কোনো কারণ থাকে না। সেসব ক্ষেত্রে রোগীর নিজের মধ্যে জিনের পরিবর্তনের ফলেই এ রোগের সৃষ্টি হয়ে থাকে।

হিমোফিলিয়ায় আক্রান্ত রোগীর শরীরে কোথাও কেটে গেলে বা ব্যথা পেলে রক্ত জমাট বাঁধতে বেশ সময় লাগে। রক্ত জমাট বাঁধার জন্য দুটি অত্যাবশ্যকীয় প্রোটিন, যেমন ফ্যাক্টর-৮ ও ফ্যাক্টর-৯ দরকার হয়। যাদের ফ্যাক্টর-৮ বা হিমোফিলিক ফ্যাক্টর থাকে না বা পরিমাণে কম থাকে, সেসব রোগীকে বলা হয় হিমোফিলিয়া ‘এ’, যাদের ফ্যাক্টর-৯ কম থাকে তাদের বলা হয় হিমোফিলিয়া ‘বি’ রোগী। উত্তরাধিকার হিসেবে কীভাবে বংশানুক্রমিক হয়।

?? মা সুস্থ, বাবা হিমোফিলিয়ায় আক্রান্ত, তাহলে এই দম্পতির মেয়েশিশুরা হবে রোগের বাহক, ছেলেরা সুস্থ থাকবে।
?? মা হিমোফিলিয়ার বাহক, সে ক্ষেত্রে ৫০ ভাগ ঝুঁকি ছেলের হিমোফিলিয়া হওয়ার এবং ৫০ ভাগ আশঙ্কা মেয়ের রোগের বাহক হওয়ার।
?? কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেয়েরাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে, যদি মা বাহক এবং বাবা হিমোফিলিয়ায় আক্রান্ত হন।

সাধারণত তিন ধরনের বহিঃপ্রকাশ হয় রক্ত জমাট বাঁধার মাত্রার ওপর। যেমনঃ মাইল্ড হিমোফিলিয়া, যেখানে ফ্যাক্টর-৮ ও ৯ থাকবে ৫০ থেকে ১৫০ শতাংশে। মডারেট হিমোফিলিয়া এখানে রক্ত জমাট বাঁধার মাত্রা ১ থেকে ৫ শতাংশ।
এসব রোগীর গুরুতর আঘাত বা অনেক সময় ধরে অপারেশন করলে রক্তক্ষরণ হয়।

সিভিয়ার হিমোফিলিয়া, এখানে ফ্যাক্টর-৮ বা ৯-এর মাত্রা থাকে ১ শতাংশেরও কম। সপ্তাহে এক থেকে দুবার আপনাআপনি রক্তক্ষরণ হয় মাংসপেশি বা অস্থিসন্ধিতে, বিশেষ করে হাঁটুতে।
হিমোফিলিয়ার উপসর্গ
জ্নের সময় অনেক শিশুরই দেখা যায় মাথাটা একদিকে ফুলে গেছে অথবা নাভি কাটার পর সহজে রক্ত বন্ধ হতে চায় না।

শিশুকে বাহুতে ধরে কোলে নেওয়ার সময় দেখা যায়, যেখানে ধরে কোলে নেওয়া হয়েছে সেখানটা লাল হয়ে গেছে। শিশু যখন একটু বড় হয়ে হামাগুড়ি দিতে শুরু করে, তখন হাঁটু ও কনুইয়ে বড় বড় নীল দাগ হয়ে যায়।
দাঁত ওঠার সময় অতিরিক্ত রক্ত পড়া
বড়দের ক্ষেত্রেঃ যেকোনো আঘাতে মাংসপেশি অথবা বড় বড় অস্থিসন্ধি-যেমন হাঁটু, হিল জয়েন্ট-এসব জায়গা ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, এমনকি মস্তিষ্কের ভেতর রক্তক্ষরণ হয়ে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।
ক্রমাগত অস্থিমজ্জায় রক্তক্ষরণ হতে হতে রোগী পঙ্গু হয়ে যায়।

চিকিৎসার ধরন, কখন প্রয়োজন
যখনই যেখান থেকে রক্তক্ষরণ হবে, সঙ্গে সঙ্গে সেটা বন্ধ করতে হবে। যেমনঃ
?? মাংসপেশিতে রক্তক্ষরণ, বিশেষ করে বাহু ও পায়ে।
?? নাক, কান, গলায় ব্যথা পেলে।
?? অতিরিক্ত মাথাব্যথা হলে।
?? যেকোনো দুর্ঘটনায় রক্তপাত হলে।
কখন চিকিৎসার প্রয়োজন নেই
শরীরের বিভিন্ন অংশে ছোট ছোট নীল দাগ। নীল দাগ যদি মাথার কোথাও হয়, অবশ্যই চিকিৎসক বা হিমোফিলিয়া নার্সের মাধ্যমে পরীক্ষা করাতে হবে।
?? অল্প কাটাছেঁড়া হলে। তবে ক্ষত যদি অপেক্ষাকৃত গভীর হয় তাহলে প্রেসার ব্যান্ডেজ দিলেই রক্তপাত বন্ধ হয়ে যাবে।

নাক দিয়ে রক্ত পড়লে পাঁচ মিনিট নাক চেপে ধরে রাখতে হবে। এতেও যদি রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে না আসে তাহলে চিকিৎসা নিতে হবে।
হিমোফিলিয়া রোগীদের প্রতি নির্দেশ
?? যখনই রক্তপাত হবে সঙ্গে সঙ্গে তা বন্ধ করতে হবে। তাহলে ব্যথাও কম হবে, অস্থিসন্ধিও সুস্থ থাকবে।
?? মাংসপেশি কার্যক্ষম রাখতে হিমোফিলিয়া চিকিৎসক অথবা ফিজিওথেরাপিস্টের নির্দেশে ব্যায়াম করতে হবে।
?? ব্যথানিরোধ বড়ি-যেমন অ্যাসপিরিন খাওয়া যাবে না।
?? নিয়মিত রক্তরোগ-বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
?? মাংসপেশিতে ইনজেকশন নেওয়া যাবে না। তবে টিকা নেওয়া যাবে।
?? দন্তরোগ-বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
?? মেডিকেল আইডেনটিফিকেশন কার্ড সব সময় সঙ্গে রাখতে হবে।
?? তাড়াতাড়ি রক্তপাত বন্ধ করতে প্রাথমিক চিকিৎসা জানতে হবে।
আরও কিছু
?? হিমোফিলিয়া জ্নগত রোগ, এটি ছোঁয়াচে নয়।
?? নির্মূল করতে হলে জেনেটিক্যাল কাউন্সেলিং করা প্রয়োজন।
?? রোগের বাহককে চিহ্নিত করতে হবে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচ হাজার ছেলেশিশুর মধ্যে একজন হিমোফিলিয়া নিয়ে জ্ন নেয়। বর্তমানে সারা বিশ্বে চার লাখ লোক এ রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ উপযুক্ত চিকিৎসা পাচ্ছে। 

ডা• মাসুদা বেগম
সহযোগীঅধ্যাপক, হেমাটোলজি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখমুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
প্রথম আলো, ২৩ এপ্রিল ২০০৮

রবিবার, ১৪ জুন, ২০১৫



Confusion , and the reality of the heart valves surgery .


হার্টের ভাল্ব সার্জারি বিভ্রান্তি ও বাস্তবতা


হার্টের ভাল্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা পরিষ্কার নয়। অনেকে মনে করেন ভাল্ব হার্টের শক্তির উৎস, এটা হার্টকে শক্তি জোগায়। কাজেই ভাল্ব দুর্বল হলে তা পরিবর্তন করে নিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আসলে হার্টের ভাল্ব ব্যাটারি বা আলো জাতীয় কিছু নয়, এগুলো অনেকটা একমুখী দরজার মতো যা এক দিকে খোলে এবং বিপরীত দিকে বন্ধ হয়। আপনারা পানির লাইনে ভাল্ব দেখেছেন যা পানির চলার দিক নিয়ন্ত্রণ করে। এই ভাল্বগুলো পানি চলতে সাহায্য করে কিন্তু ফিরে আসতে বাধা দেয়। হার্টের ভাল্বগুলো ঠিক একইভাবে হার্টের ভেতরে রক্ত চলার দিক নিয়ন্ত্রণ করে। 

হার্টের ৪টি ভাল্ব 
হার্টে ৪টি ভাল্ব বা দরজা থাকে এবং এর ২টি ভাল্ব বেশির ভাগ সময় অসুস্থ হয়। ভাল্বে সাধারনত দুুই ধরণের অসুস্থতা দেখা যায়- (১) ভাল্ব সরু হওয়ার- ফলে সরু দরজা দিয়ে রক্তের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং প্রয়ে্‌্‌াজনীয় পরিমাণ রক্ত সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। (২) ভাল্ব ষবধশ করা- কিছু রক্ত পেছনের দিকে চলে যায় এবং সন্মুখ দিকের রক্তপ্রবাহ কমে যায়। এই দুই ধরনের অসুখই সঠিকভাবে প্রয়োজনীয় পরিমাণ রক্তপ্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস করে এবং হার্ট অতিরিক্ত কাজের মাধ্যমে শরীরের চাহিদা মোতাবেক রক্তপ্রবাহের চেষ্টা করে। এই অতিরিক্ত কাজ করতে করতে এক সময় হার্ট দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সমস্ত শরীরের সঠিক রক্তপ্রবাহ বিঘ্নিত হয়। এ অবস্থায় রোগীর শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে, বুক ধড়ফড় করা, কাশি, বুকে ব্যথা, শরীরে পানি জমাসহ নানা রকম সমস্যার সৃষ্টি হয়। 
এখন প্রশ্ন হলো কেন ভাল্ব অসুস্থ হয়? অনেক কারণে এই রোগ হতে পারে তবে আমাদের দেশে প্রধানতঃ 

বাত জ্বরের জটিলতা থেকে এই রোগ বেশি হয়। বাত জ্বর যদি প্রাথমিক অবস্থায় সঠিকভাবে চিহ্নিত না হয় অথবা চিহ্নিত হওয়ার পরেও যদি সঠিকভাবে চিকিৎসা করা না হয় তখন অনেক দিন পরে হার্ট ভাল্বের অসুখ শুরু হয়। অথচ সঠিকভাবে বাত জ্বরের চিকিৎসা করা হলে ভাল্বের অসুখ পুরোপুরি ফেরানো সম্ভব। সুখবর হলো মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন হয়েছে এবং ভাল্বের অসুখ আগের চেয়ে অনেকাংশে কমে এসেছে। 

জন্মগত ত্রুটির কারণে কখনো ভাল্বের অসুখ হতে পারে। এই্‌ ক্ষেত্রে পূর্বসতর্কতা রোগ প্রতিরোধে তেমন সহায়ক হয় না বরং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থতা রক্ষা করাই মুখ্য উদ্দেশ্য। 

বেশি বয়সে ভাল্বে ক্যালসিয়াম জমে কখনো কখনো ভাল্ব শক্ত হয়ে যায় তখন ভাল্বের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়। এই ক্ষেত্রেও সঠিক চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে রোগী সুস্থ থাকতে পারেন কিন্তু পূর্বসতর্কতা রোগ প্রতিরোধে তেমন কার্যকরী হয় না। 

ভাল্বের অসুখ হলে একজন ভালো হার্টের চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তিনি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আপনার রোগের গুরুত্ব অনুসারে সঠিক এবং সময়োপযোগী চিকিৎসা নির্ধারণ করবেন। ভাল্বের অসুখ শুনেই ভীত হবেন না, বর্তমানে এই রোগের অত্যন্ত কার্যকরী, গ্রহণযোগ্য সুচিকিৎসা আছে, যার মাধ্যমে পুরোপুরি সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব। অযথা বিভ্রান্ত হবেন না, হার্টের অসুখ মনে হলে একজন দক্ষ হার্টের চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

ডা. এম. আখতার হোসেন
লেখকঃ কনসালট্যান্ট-কার্ডিয়াক সার্জন, স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা
দৈনিক নয়া দিগন্ত, ২০ এপ্রিল ২০০৮

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০১৫

রক্তদুষ্টি বা সেপসিস


রক্তদুষ্টি বা সেপসিস


যখন কোনো জীবাণু মানবদেহে প্রবশে করে তখন শরীরে যে অসুস্থতা দেখা দেয় তাকে রক্তদুষ্টি বলা হয়। রক্তদুষ্টির সাথে যদি কোনো অঙ্গের রক্ত চলাচল কমে যায় কিংবা তার কার্যকারিতাতে অস্বাভাবিকতা প্রকাশ পায় তবে তাকে তীব্র রক্তদুষ্টি বলা হয়ে থাকে। যখন রক্তদুষ্টির সাথে শরীরে রক্তচাপ কমে যায় তখন তাকে রক্তদুষ্টিজনিত অবসাদ বলা হয়ে থাকে। 

রক্তদুষ্টির তীব্রতা যত বাড়ে মৃত্যুহার ততই বেড়ে যায়। ম্যালেরিয়া ছাড়া অল্পসংখ্যক জীবাণুই রক্তে বংশবিস্তার করে থাকে। যখন শরীরের প্রতিবন্ধকতায় ছেদ পড়ে কিংবা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লোপ পায় তখন জীবাণু শরীরের রক্তে ঢুকে পড়ে ও রক্তদুষ্টি সৃষ্টিতে সাহায্য করে থাকে। 

বাইরের দিক থেকে চমড়া ও ভেতরের দিক থেকে শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী দিয়ে শরীরে আবৃত থাকে। বহিস্থ বাধার অখণ্ডতা হারালে সাধারণত বোঝা যায়, কিন্তু মুত্র নিষ্কাশনের জন্য মূত্রনালীতে নল, শিরার ভেতরে নল কিংবা শ্বাসনালীতে নল ইত্যাদি দিয়ে সৃষ্ট ক্ষুদ্র ফাটল সহজে বোঝা যায় না। অনেক সময় ক্ষুদ্র ক্ষত থেকেও রক্তদুষ্টি হতে পারে। যেমন কীটপতঙ্গের কামড়, কাঁটার খোঁচা ও চামড়ায় সামান্য ক্ষত ইত্যাদি। সাধারণত খাদ্যনালী যা মুখ থেকে পায়ুপথ পর্যন্ত বিস্তৃত, এমনকি যা যকৃত ও পিত্তকে অন্তর্ভুক্ত করে সেখানেও আন্তঃস্থ বাধায় ফাটল ধরে বেশি। 

কোনো অসুখ রোগ জীবাণুর দ্বারা হয়েছে কি না তার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হলো সেই জীবাণুকে মাইক্রোস্কোপের নিচে শনাক্ত করা বা গবেষণাগারে সেই জীবাণু উৎপাদন করা। যা হোক রোগজীবাণু গবেষণাগারে উৎপাদন করতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে এবং এদের মধ্যে অর্ধেক জীবাণু সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায় না, কেননা অনেক জীবাণু ধীরে ধীরে উৎপাদিত হয়, অনেক রোগী আগেই এন্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যবহার করে থাকে এবং অনেক সময় নমুনা সংগ্রহ করতে ভুল হয়ে যায়। সাধারণত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে এন্টিবায়োটিক ওষুধ শুরু করে দেয়া হয় এবং পরে গবেষণাগারে ওই জীবাণু উৎপাদন করে ও তার সংবেদনশীলতা দেখে রোগের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায় অথবা ওষুধের পরিবর্তন করা যায়। অত্যন্ত আধুনিক পদ্ধতিতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এবং গবেষণাগারে উৎপাদন ছাড়াই জীবাণু শনাক্তকরণ এবং ওষুধের কার্যকারিতা সম্বন্ধে ধারণা নেয়া যায়। পিসিআর (চঈজ) নামক পদ্ধতিতে ডিএনএ (উঘঅ) সম্প্রসারণের মাধ্যমে এটি করা হয়। কিন্তু এ পদ্ধতি ব্যয়বহুল এবং এখনো আমাদের দেশে বহুল প্রচারিত নয়। 

চিকিৎসা সাধারণত দুই ভাগে করা হয়ে থাকে­ সাধারণ প্রয়োজন অনুযায়ী যোগান দেয়া ও সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা। নানা কারণে রক্ত চলাচল কমে যেতে পারে এবং তা বেশি দেরি না করেই পূরণ করতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্যালাইন দিয়ে এর অভাব পূরণ করা হয়। যখন স্যালাইন দিয়ে এর অভাব পূরণ করা না যায় তখন ইনজেকশন ব্যবহার করতে হয়। ডোপামিন জাতীয় ইনজেকশন সাধারণত ব্যবহার করা হয়। শরীরের রক্ত চলাচল কমে গেলে সময়মতো তা লক্ষ্য প্রয়োজনবোধে যন্ত্রচালিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করলে অনেক রোগী বেঁচে যাবে। 

রক্তদুষ্টিজনিত অনেক রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাসের সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে। কেননা এসব রোগীর শ্বাসের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়। রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের মাংশপেশির অকার্যকারিতা দেখা দেয় যদিও ফুসফুসের কোনো প্রদাহ হয় না। কোনো কোনো রোগীর অত্যন্ত শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। মাঝে মাঝে অবসাদ কমিয়ে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় কমানো যায়। 

অসুখের তীব্রতা কিডনির কার্যহীনতা দেখা দেয়।

সাধারণত পুষ্টি রক্ষা করার জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে নল দিয়ে খাবার ও পানীয় দিতে হবে। রক্তদুষ্টি রোগে রক্তে চিনির পরিমাণ বেড়ে যায়। এমতাবস্থায় আধিক্য নিয়ন্ত্রণের জন্য ইনসুলিনের ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। 

সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার মধ্যে প্রথম এবং প্রধান চিকিৎসা হলো প্রচলিত জীবাণুনাশক জীবাণু ওষুধ। রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চিকিৎসা চালু করে ফেলতে হবে। এতে মৃত্যুহারও কমে আসবে। তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু না করলে মৃত্যুহার বেড়ে যাবে। বেশিরভাগ রক্তদুষ্টি গ্রাম পজিটিভ জীবাণু দ্বারা হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু রক্তদুষ্টি শ্বাসনালীতে পেটের ভেতরে কিংবা মূত্রনালীতে শুর হয়। যা হোক, প্রাথমিক অবস্থায় প্রদাহের উৎস জানা সম্ভবপর নাও হতে পারে। এন্টিবায়েটিক চিকিৎসা রোগীর সংবেদনশীলতা দেখে কিংবা স্থায়ীভাবে জীবাণুর প্রতিবন্ধকতা জেনে ব্যবহার করতে হবে। সাধারণত যেসব এন্টিবায়োটিকের কার্যকারিতার পরিধি 

বিস্তৃত সেসব এন্টিবায়েটিক ব্যবহার করতে হয়। যদি ছত্রাকজাতীয় প্রদাহের সম্ভাবনা থাকে তবে এর জন্য ওষুধ ব্যবহার করতে হবে শুরুতেই এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি কোনো উন্নতির লক্ষণ দেখা না যায় তবে অন্যান্য সহকর্মীর সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি প্রথম স্তরের ওষুধ কার্যকর না হয় তবে রোগীর ভবিষ্যত খারাপ।

যদি প্রদাহের উৎস সম্বন্ধে সুনির্দিষ্ট ধারণা থাকে তবে যেসব এন্টিবায়োটিকের পরিধি সীমিত সেসব এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত। 
তীব্র রক্তদুষ্টিতে শরীরে স্টেরয়েড তৈরি কম হয়। অল্প পরিমাণে হাইড্রোকর্টিসন (ঐীনড়সধসড়য়মঢ়সষপ) ৫ থেকে ১১ দিন দিলে শকের সময় কমে আসে এরবং মৃত্যুহারও কমে আসে। যেসব রোগীর এড্রিনাল গ্রন্থির কার্যকারিতা কম থাকে তাদের বেলায় উপকার বেশি পাওয়া যায়। 

স্ট্যাটিন ব্যবহার করলে রক্তদুষ্টির ঝুঁকি কমে যায় এবং এতে মৃত্যুহারও কমে। 
যদি রক্তদুষ্টির ক্রমবৃদ্ধি এন্টিবায়োটিক দ্বারা নিয়ন্ত্রণে না আনা যায় তবে বিভিন্ন অঙ্গের অকার্যকারিতা দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন অঙ্গের অকার্যকারিতার সাথে মৃত্যু ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। মধ্যম মেয়াদে কিংবা দীর্ঘ মেয়াদে কিডনির কার্যকারিতায় গোলযোগ দেখা দেয়। যাদের ক্ষণস্থায়ীভাবে কিডনির অকার্যকারিতা দেখা দেয় তাদের অনেকের ডায়ালাইসিস করতে হয়। এদের মধ্যে আবার অনেকেই পরবর্তী সময়ে ডায়ালাইসিস ছাড়াই চলতে পারে।


লেখক:
ডা. এ কে এম আমিনুল হক
লেখকঃ সহযোগী অধ্যাপক (মেডিসিন), ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০১৫


করোনারি হৃদরোগ নিরাময় ও প্রতিরোধে মেডিটেশন


হার্ট অ্যাটাক এমন এক হৃদয় সমস্যা যা যেকোনো সময় এতটুকু পূর্বাভাস না দিয়ে, একটুও সময় না দিয়ে কেড়ে নিতে পারে যেকোনো মানুষের জীবন। 
বাংলাদেশে প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজনের হার্টের সমস্যা আছে এবং প্রতি ১ হাজার জনের একজন হার্টের সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট ১৮ মার্চ ঢাকায় এক বিবৃতিতে একথা জানায়। সাম্প্রতিক এক জরিপের উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, হার্টের সমস্যা ধীরে ধীরে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করে। ফলে প্রতি বছর ১৫ থেকে ২০ শতাংশ লোক উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যার অর্ধেকই মারা যায় হার্টের রোগে ও স্ট্রোকে। 
গত তিন দশকে এ দেশে করোনারি হৃদরোগের প্রকোপ যত বেড়েছে, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা, বেড়েছে আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু। হার্ট অ্যাটাক হয়েও বেঁচে থাকার নানা মাত্রার অক্ষমতা আর তীব্র মৃত্যু ভয় নিয়ে দিন কাটানোর বিড়ম্বিত জীবন কাটানোর ঘটনাও স্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক ব্যাপার হলো, এ দেশে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হচ্ছেন ৫০ পার করা তো বটেই, আক্রান্ত হচ্ছেন ৪০ পার করা অসংখ্য মানুষ। ৩০ পার করে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হচ্ছেন, বিশেষ করে দেশের বড় শহরগুলোতে এমন সংখ্যাও আজ আর খুব বিরল নয়। করোনারি হৃদরোগ আর হার্ট অ্যাটাক পুরোপুরি না হলেও অনেকটাই প্রতিরোধযোগ্য। করোনারি হৃদরোগ আক্রান্ত হলেও নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন মেনে চললে আর যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধপত্র খেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমিয়ে আনা যায় উল্লেখযোগ্যভাবে। 
বিশ্বের ১ নম্বর মরণব্যাধি হচ্ছে হৃদরোগ। করোনারি আর্টারি রোগের কারণে এক-তৃতীয়াংশ রোগী মারা যায়। লাখ লাখ হার্ট অ্যাটাক হয় প্রতি বছর। ২৫ শতাংশ লোক হাসপাতালে আসার আগেই মারা যায়। যদিও বাংলাদেশে বেশ কিছু সেন্টারে এনজিওপ্লাস্টি ও বাইপাস করা হচ্ছে তা কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সচ্ছল রোগীরা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হৃদরোগের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলছে এবং এভাবে বেড়ে চললে আগামীতে হৃদরোগের চিকিৎসার হাসপাতাল ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কয়েকগুণ প্রয়োজন হবে। কিন্তু রাতারাতি হৃদরোগের ডাক্তারের সংখ্যা ও বেড বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই এর চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত। 
হৃদরোগের কারণঃ এর অন্যতম কারণ এ দেশের মানুষের জীবনযাত্রায় দ্রুতলয়ে পশ্চিমী ধাঁচের পরিবর্তন। ফাস্টফুডের রমরমার সাথে তাল মিলিয়ে বেড়েছে গাদাগুছের ফ্যাট খাওয়ার প্রবণতা, কমেছে যথেষ্ট শাকসবজি আর ফলফলাদি খাওয়ার অভ্যাস, কমেছে টাটকা খাবার খাওয়ার ঝোঁক, কমেছে পরিশ্রম। 
জীবনের গতি বাড়তে বাড়তে জেটগতির জীবনের অভ্যস্ত হতে শুরু করেছেন একশ্রেণীর মানুষ। দ্রুতগতির জীবনে ইঁদুর দৌড় দৌড়াতে হলে মনের ওপর চাপ বাড়বেই। বাড়বে টেনশন, চাপ সইতে না পেরে বিক্ষত, বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা করোনারি হৃদরোগ বেড়ে চলার এও একটি অন্যতম কারণ। 
অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে গেছে ধূমপান, বিশেষ করে কম বয়সে ধূমপান রপ্ত হওয়ার অভ্যাস। অতীতে বাঙালি জীবনে নানা ধরনের শারীরিক পরিশ্রম ছিল বেঁচে থাকার আবশ্যিক এক প্রয়োজন। কর্মমুখর, পরিশ্রমনির্ভর সেই জীবনযাপনের পদ্ধতি থেকে সরে এসেছেন দেশের এক বড় অংশের মানুষ। গ্রামের একশ্রেণীর মানুষ এখন মোটরসাইকেলে চড়েন বেশি, সাইকেলে চড়েন কম, হাঁটেন আরো কম। শহরাঞ্চলে লাফ দিয়ে দিয়ে বাড়ছে পরিশ্রমবিমুখ গাড়িচড়া আর বসে কাজ করার আয়েশি জীবন কাটানোর প্রবণতা। কমছে শরীরের ব্যায়াম, বাড়ছে হুলত্ব। এ দেশে করোনারি হৃদরোগ বাড়ানোর জন্য এরকম পরিশ্রমহীন বিলাসবহুল জীবনযাপন অনেকটা দায়ী। ধমনীর ভেতরকার দেয়ালে চর্বির স্তর জমে কমতে থাকে রক্তের সঞ্চালন। ধমনীর ভেতর চর্বি জমে ধমনীর গহ্বর ধীরলয়ে সরু হতে থাকে যেকোনো মানুষের ২০-২২ বছর বয়স থেকে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে চর্বি জমার হারও বাড়ে, ধমনীর গহ্বর সরু হয় আরো। ধমনীতে চর্বির স্তর জমে ধমনীর দেয়াল মোটা আর গহ্বর সরু হতে থাকা, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় আথোরোস্কোলোরোসিস, পরিণামে অ্যানজিনা প্যাকটোরিস এবং মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন ঘটনা ঘটে, সোজা কথায় হার্ট অ্যাটাক। অনেকে করোনারি আর্টারি ব্লকের সমস্যাকে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বলে মনে করে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খান এবং এ রোগের ভয়াবহতা দিন দিন বেড়েই চলে। যখন তীব্র লক্ষণ দেখা দেয় তখন হাসপাতালে যাওয়ার আগে বা পরে অনেকেরই মৃত্যু পর্যন্ত বরণ করতে হয়। 
প্রচলিত চিকিৎসাঃ প্রচলিত চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই করোনারি হার্ট ডিজিসের জন্য অ্যানজিওপ্লাস্টি বা বাইপাস সার্জারি করা হয়। উভয় পদ্ধতিতেই খচর অনেক বেশি এবং তা-ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত নয় এবং কয়েক বছরের মধ্যেই আবার  ব্লক দেখা দেয়। সার্জারির পর একজন মানুষের জীবনীশক্তি কার্যত অর্ধেকে এসে দাঁড়ায়। ওষুধ ও অস্ত্রোপচার ছাড়া চিকিৎসাঃ ওষুধ ও অস্ত্রোপচার ছাড়াই হৃদরোগের নিরাময় লাভ করা সম্ভব এবং এ পদ্ধতির প্রবর্তক হচ্ছেন ক্যালিফোনিয়ার বিজ্ঞানী ডা. ডিন অরনিস। ১৯৮৭ সালে এই পদ্ধতি প্রবর্তনের পর থেকে এর সফলতা সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। জীবনযাপন পরিবর্তনই হচ্ছে এ পদ্ধতির ভিত্তি। ওষুধ ছাড়াই হৃদরোগ চিকিৎসা ডা. অরনিশের সাফল্যের কথা বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ১৯৮৮ সালে। করোনারি আর্টারি রোগী অথচ বাইপাস সার্জারি করতে রাজি ছিলেন না এমন রোগীকে তিনি দু’ভাগে ভাগ করে চিকিৎসা শুরু করলেন। প্রথম গ্রুপের রোগীদের কম ফ্যাট ও বেশি আঁশযুক্ত খাবার, স্টেসমুক্ত থাকার পদ্ধতি, প্রাণায়াম যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন করার উপদেশ ওেয়া হলো। আর দ্বিতীয় দলের রোগীদের হৃদরোগের সচরাচর ওষুধ দেয়া হলো।
দু’গ্রুপের লোকজনকেই বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হলো। রোগের অবস্থা আবার আগাগোড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলো কিছু দিন পরপর, পাওয়া গেল অদ্ভুত ফল। ডা. অরনিশের কার্যসূচি যারা অনুসরণ করেছিলেন তাদের ধমনীতে জমে থাকা চর্বি বা কোলেস্টেরল পরিষ্কার হয়ে রক্ত চলাচল বেড়ে যাওয়ায় তারা ভীতিকর বুকব্যথা থেকে মুক্তি পান এবং তাদের হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমে আসে। অপর দিকে দ্বিতীয় দলের রোগীরা আগের অবস্থায়ই থেকে গেল অর্থাৎ তাদের অবস্থার কোনো উন্নতি হলো না বরং কারো কারো ক্ষেত্রে আগের তুলনায় আরো খারাপ হলো। ভারতের গবেষণাঃ ভারতের রাজস্থানের মাউন্ট আবুতে অবস্থিত গ্লোবান হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে ডা. সতিশ গোপ্তার নেতৃত্বে করোনারি আর্টারি ডিজিস রিগ্রেশনের এক গবেষণা করা হয়। এতে ভারতের অন্যতম হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন, তাদের মধ্যে প্রফেসর অনিল কুমার, ভাইস প্রেসিডেন্ট, এশিয়া প্যাসিফিক সোসাইটি অব কার্ডিওলোজি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট, ইন্ডিয়ান কার্ডিওলোজি সোসাইটি, ডা. এইচ কে চোপড়া (দিল্লি), সেক্রেটারি, কার্ডিওলোজি সোসাইটি অব ইন্ডিয়া, ডা. নরেশ তেহবান, এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর, এসকট হার্ট ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারসহ অনেক কার্ডিওলোজিস্ট ও অন্য বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। 
তারা ১ হাজার ২০০ রোগীর ওপর গবেষণা চালিয়ে যান। ৭ দিন পর থেকেই রোগীরা অনেকটা সুস্থবোধ করতে থাকেন এবং তাদের ওষুধ নেয়ার প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। স্ট্রেস হরমোন লেভেল কমে যায় সেই সাথে কমে ওজন, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা এবং কোলেস্টেরল এবং বেড়েছে ইটিটি, ইজেকশন ফোর্স ও ট্রেডমিল টেস্টের ক্ষমতা। তারা ভারতের প্রেসিডেন্টের কাছে এই গবেষণার রিপোর্ট পেশ করেন। তাতে দেখা যায় প্রায় সব রোগীরই উন্নতি হয়েছে এবং সুস্থতা ফিরে পেয়েছে। 
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাঃ ৩০-৩২ বছর বয়সের এক বাংলাদেশী রোগীর কথা বলছি। ৩ মাস আগে এনজিওগ্রামে তার লেফট এন্টেরিয়র ডিসেন্ডিং আর্টারিতে ৮৫-৯০ শতাংশ ব্লক ধরা পড়ে। ডাক্তাররা তাকে তাৎক্ষণিক এনজিওপ্লাস্টি করার পরামর্শ দেন। কিন্তু টাকার অভাবে তিনি তা করাতে পারেননি। তাকে প্রাণায়াম ও মেডিটেশন পদ্ধতি চালিয়ে যেতে বলা হয়। তিনি বিগত আড়াই-তিন মাসে এখন আগের অপেক্ষা অনেক ভালো আছেন। যেখানে তার আগে আধা মাইল হাঁটতে কষ্ট হতো, এখন সে কষ্ট ছাড়াই দুই-তিন মাইল হাঁটতে পারেন। তিনি এর মধ্যে ভারতের এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখিয়ে এসেছেন। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার বর্তমান অবস্থা দেখে তাকে আগের পদ্ধতিগুলো মেনে চলার পরামর্শ দেন এবং আপাতত এনজিওপ্লাস্টি করার দরকার নেই বলে মত দেন। 
কারা করবেনঃ (১) যাদের হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা আছে, যেমন­ হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, পরিবারে হার্টের অসুখের ইতিহাস, উচ্চ কোলেস্টেরল ও স্থূলতা তারা উপরোক্ত পদ্ধতিগুলো মেনে চলে প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন যাতে তাদের করোনারি আর্টারি ডিজিস না হয়। (২) যাদের এনজিওগ্রাম করার পর করোনারি আর্টারিতে ব্লক ধরা পড়েছে তারা সেকেন্ডারি, প্রতিরোধ করে এ রোগের ভয়াবহ উপসর্গ থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন। (৩) যাদের এনজিওপ্লাস্টি বা বাইপাস অপারেশন করা হয়ে গেছে তাদের যেন আবার ব্লক না হয় সে জন্য তারা টারসিয়ারী প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। 
অধিকাংশ ডাক্তার মনে করেন করোনারি আর্টারি একবার ব্লক হতে শুরু করলে এর গতি আর পাল্টানো যায় না। কিন্তু উপরিউক্ত গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনধারা পরিবর্তন করে বিশেষত খাওয়ার পরিবর্তন, সুচিন্তা, প্রাণায়াম ও মেডিটেশনের মাধ্যমে ব্লক সারানো সম্ভব। আমাদের দেশের লাখ লাখ হৃদরোগী যারা এ রোগের নিরাময়ের জন্য প্রচুর টাকা ব্যয় করে এমনকি অনেকে বাড়িঘর, জমিজমা বিক্রি করে এনজিওপ্লাস্টি বা বাইপাস অপারেশন করছেন বা অনেকে বিদেশে যাচ্ছেন, আবার অনেকের হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তারা উপরিউক্ত পদ্ধতি প্রয়োগ করে আবার পরিপূর্ণ সুস্থ জীবন পেতে পারেন।

ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস
বিভাগীয় প্রধান, ইমিউনোলজি বিভাগ,
শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, ঢাকা।
দৈনিক নয়া দিগন্ত, ১৩ এপ্রিল ২০০৮

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০১৫


Cirrhosis of the liver and heart patients piles



লিভার সিরোসিস ও হার্টের রোগীর পাইলস


লিভার সিরোসিসের রোগীদের কি পাইলস বেশি হয়? 
লিভার সিরোসিসে সাধারণত রক্তবমি হয়। পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়ার সমস্যা কম। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই রোগের কারণে রোগীদের পাইলস হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে না। অবশ্য এ ক্ষেত্রে পায়ুপথে অতিরিক্ত ফুলে ওঠা শিরার (জবপঃধষ াধৎরপবং) দেখা পাওয়া যায়। কিন্তু এটিকে পাইলসের পর্যায়ে ফেলা যায় না। পাইলস ও রেকটাল ভ্যারিসেস সম্পূর্ণ আলাদা রোগ। ডা. হসকিং ১০০ জন সিরোসিস রোগীর ওপর গবেষণা করে দেখেছেন যে শতকরা ৪৪ জনের পায়ুপথে ভ্যারিসেস (অহড়ৎবপঃধষ ঠধৎরপবং) রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো এই রোগীদের শতকরা ৪১ জনের পাইলস বা হেমোরয়েড রয়েছে। এখানে উলে্নখ্য, সর্বসাধারণের অর্থাৎ যাদের লিভার সিরোসিস হয়নি তাদের ও শতকরা ৪১% জনের পরীক্ষা করলে পাইলস পাওয়া যাবে।
চিকিৎসাঃ এ রোগে পায়ুপথে রক্ত গেলে পোর্টাল হাইপারটেনশনের চিকিৎসা করতে হবে এবং পায়ুপথে অপারেশন করে রক্ত বন্ধ করতে হবে, তবে এ অপারেশন পাইলসের অপারেশন নয়। 

হার্টের রোগীর পাইলস :
অনেকে আছেন পাইলসকে অবহেলা করেন। যদি পাইলস থাকা অবস্থায় কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হন তাহলে হৃদরোগের চিকিৎসার আগে পাইলস অপারেশন করে আসা প্রয়োজন। কারণ হৃদরোগ অপারেশনের পর রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধক ওষুধ খেতে হবে বহু দিন। তখন পাইলসের রক্ত যাওয়ার পরিমাণ বিপজ্জনক-ভাবে বেড়ে যাবে। রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধকারী ওষুধের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এসপ্রিন, ডিসপ্রিন ও ইকোসপ্রিন। অনেক উচ্চ রক্তচাপের রোগীও এসপ্রিন, ডিসপ্রিন ও ইকোসপ্রিন জাতীয় ওষুধ নিয়মিত খাচ্ছেন। এগুলো দেয়া হয় হৃদরোগ প্রতিরোধের জন্য। ওষুধটি রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। এমতাবস্থায় পাইলসের রক্তক্ষরণ বন্ধ করা খুবই কষ্টকর। অতএব অবহেলা না করে সময় থাকতে পাইলসের চিকিৎসা করে নেয়া জরুরী।
**************************
অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল হক
বৃহদন্ত্র ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ, 

চেয়ারম্যান, কলোরেকটাল সার্জারি বিভাগ, 
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। 
চেম্বারঃ জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডেশিপ হাসপাতাল, ৫৫, সাত মসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা। দৈনিক নয়া দিগন্ত, ৬ এপ্রিল ২০০৮

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০১৫


To protect Heart Attack


হার্ট অ্যাটাক রোধে করণীয়


হার্টের উপরিভাগে লেপ্টে থাকে করোনারি আর্টারি বা ধমনী, যার মাধ্যমে হার্ট পুষ্টি এবং অক্সিজেন পায়। যখন করোনারি ধমনীতে চর্বি জমে এবং রক্ত জমাট বেঁধে (শতকরা ১০০ ভাগ) রক্তনালীর রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় তখন উক্ত রক্তনালীর মাধ্যমে হার্টের যে অংশটুকু পুষ্টি এবং অক্সিজেন পেত সেই মাংসপেশিটুকুতে নানারকম পরিবর্তন সাধিত হয়, যাকে আমরা হার্টঅ্যাটাক বলি। মেডিকেল পরিভাষায় বলা হয় মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন। যদিও হার্টঅ্যাটাক হঠাৎ করেই হয় কিন্তু এটি দীর্ঘদিন ধরে করোনারি ধমনীতে অ্যাথেরোসক্লেরোটিক পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি চলমান রোগ প্রক্রিয়ারই বহিঃপ্রকাশ। তাই মারাত্মক এই রোগটিকে কখনো কখনো নিঃশব্দ আততায়ী বলা হয়। তবে সময়মত রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসায় রোগী ফিরে পেতে পারে নতুন জীবন।
হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকিসমূহ
হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকিসমূহের মধ্যে কিছু ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণযোগ্য। আবার কিছু ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। যেমন- পারিবারিক হৃদরোগের ইতিহাস।
ঝুঁকিসমূহ
০ করোনারি ধমনীতে চর্বির আধিক্য
০ ডায়াবেটিস মেলাইটাস
০ উচ্চ রক্তচাপ
০ ধূমপান
০ শারীরিক ওজন বৃদ্ধি
০ পারিবারিক হৃদরোগের ইতিহাস
০ কায়িক পরিশ্রমহীনতা
০ স্ট্রেস
০ মহিলাদের জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি ইত্যাদি।
ধূমপান এবং হার্টঅ্যাটাক
ধূমপানে করোনারি ধমনীতে মাইক্রোইনজুরি হয়, যার ফলে রক্ত জমাট পদ্ধতি ত্বরাম্বিত হয়। এছাড়া ধূমপানে রক্তে কোলেস্টেরল অর্থাৎ যে কোলেস্টেরল হার্টের জন্য ভালো-‘এইচডিএল’ কমে যায়। ‘এইচডিএল’ কমে গেলে খারাপ কোলেস্টেরল ‘এলডিএল’ বেড়ে যায়। অর্থাৎ ধীরে ধীরে হার্টঅ্যাটাকের দিকে ধাবিত হয়।
হার্টঅ্যাটাকের উপসর্গ
০ বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হওয়া। কখনো কখনো ঘাড়, চোয়াল, পিঠ বা হাতেও ব্যথা হতে পারে।
০ বুকে ব্যথা এমনভাবে রোগীরা বর্ণনা করেন যেন কোনো ব্যান্ড বুকের ওপর চাপ দিয়ে আছে। তবে ডায়াবেটিস রোগীরা কখনো কখনো হার্টঅ্যাটাকে এ ধরনের ব্যথার কথা নাও বলতে পারেন।
০ বুকের ব্যথার সঙ্গে প্রচণ্ড ঘাম হতে পারে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপসর্গ, যার দ্বারা বোঝা যায় হার্টঅ্যাটাকের প্রক্রিয়া চলছে।
হার্টঅ্যাটাক প্রতিরোধে করণীয়
হৃদরোগ প্রতিরোধযোগ্য এবং হৃদরোগের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দেয়া সম্ভব শুধু নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের মাধ্যমে। যে কোনো ধরনের স্ট্রেস এড়িয়ে চলুন। কর্মজীবনের সব ব্যস্ততার মধ্যেও মানসিক প্রশান্তির কিছু উপায় বের করে নিতে হবে। পরিমিত কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করুন এবং কম চর্বিযুক্ত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন।
ধূমপান ত্যাগ করা অত্যন্ত জরুরি। শুধু ধূমপান ত্যাগের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং নিয়মিত মনিটরিং করুন। রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখুন, বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত সজীবভাবে হাঁটার অভ্যাস করুন। কমপক্ষে ৪৫ মিনিট প্রত্যহ হাঁটাহাঁটি করুন। দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় ক্যালরির পরিমাণ কমিয়ে দিন। এ জন্য বেশি করে শাকসবজি, কাঁচা ফলমূল গ্রহণ করুন। চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করুন।
হার্টঅ্যাটাকের চিকিৎসায় ওষুধ
হার্টঅ্যাটাকের চিকিৎসায় জরুরিভাবে কিছু ওষুধ দেয়া হয়। রোগী প্রাথমিকভাবে বিপদমুক্ত হওয়ার পর আরো কিছু ওষুধ দেয়া হয়। হার্টঅ্যাটাকের পর যে ওষুধ দেয়া হয় তা দুইভাবে কাজ করেঃ ১· হার্টঅ্যাটাকে যে ক্ষতি হয় তা পুষিয়ে নিতে ওষুধ সাহায্য করে। ২· হার্টঅ্যাটাক-পরবর্তী জটিলতা প্রতিরোধে ওষুধ সাহায্য করে।
হার্টঅ্যাটাক-পরবর্তী জটিলতা এবং রোগের উপসর্গ কমাতে নিম্নলিখিত ওষুধ ব্যবহার করা হয়ঃ
০ নাইট্রেটঃ বুকে ব্যথা বা অ্যানজাইনা কমাতে সাহায্য করে। এ ওষুধটি করোনারি ধমনীকে প্রসারিত করে এবং রক্তের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিতে অক্সিজেন সরবরাহ বৃব্দি করে।
০ বিটা ব্লকারঃ এ ওষুধটি হার্টের গতি স্পন্দনকে পরিমিত রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। হার্টের নিজস্ব কাজের বোঝাকে সহজ করে দেয়। তাই যেমন অ্যানজাইনা কমাতে সাহায্য করে তেমনি হার্টঅ্যাটাক-পরবর্তী জটিলতা কমাতে সাহায্য করে।
০ অ্যাসপিরিন এবং ক্লোপিডোগ্লেরলঃ এ দুটি ওষুধ এন্টিপ্লাটিলেট হিসেবে কাজ করে এবং রক্তকে পাতলা রাখে। রক্তকে জমাট বাঁধতে বাধা দেয় বলে এ ওষুধ হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
০ স্টাটিনঃ রক্তের কোলেল্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া আরো কিছু কাজ করে যা হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। ভবিষ্যতে হার্টঅ্যাটাক প্রতিরোধে লিপিড প্রোফাইল নিম্নরূপ থাকা বাঞ্ছণীয়-
কোলেল্টেরল < ২০০ মিগ্রা/ডিএল
এলডিএল কোলেল্টেরল < ৭০ ডিএল
এইচডিএল > ৪০ ডিএল
ট্রাইগ্লিসেরাইড < ১৫০ ডিএল
উপরোক্ত কোলেল্টেরল মাত্রা অর্জন স্টাটিন ছাড়াও প্রয়োজন ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রয়োজনে ওষুধের সঠিক ব্যবহারে গস্নুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখা।


ডা: মোস্তফা জামান
বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
হৃদরোগ বিভাগ
দৈনিক ইত্তেফাক
০৮ এপ্রিল ২০০৮

সোমবার, ২৫ মে, ২০১৫





বুকে ব্যথা হলে কী করবেন ?



হৃদরোগ সারাবিশ্বেই মারণব্যাধি হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশে এই ঘাতক ব্যাধিকে এক সময় শুধু ধনীদের রোগ হিসেবে গণ্য করা হতো। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এ রোগ এখন ধনী-গরিব যে কোনো বয়সেই আঘাত করছে। যাদের আর্থিক সঙ্গতি আছে তারা বড় বড় হাসপাতালে অ্যানজিওগ্রাম, অ্যানজিওপ্লাষ্টি বা করোনারি আর্টারি বাইপাস সার্জারির মতো আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিতে পারছেন। কিন্তু যাদের আর্থিক সঙ্গতি নেই তাদের অনেকেই এইসব আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কিন্তু ঘাতক ব্যাধি ঠিকই কেড়ে নেয় জীবন। এসব রোগী জানেন না কেন তার হৃদরোগ হয়েছে। এই রোগ কীভাবে প্রতিরোধ করা যেত অথবা এখন কী করণীয়।
বুকে ব্যথা হৃদরোগের একটি বিপজ্জনক সংকেত বা উপসর্গ। সাধারণত বুকের বাম দিকে ব্যথা শুরু হয় বা বাঁ হাত, ডান হাত, উভয় হাত, দাঁত, ঘাড় বা উপর পেটে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় হৃদরোগের ব্যথাকে গ্যাষ্ট্রিকের ব্যথা ভেবে অনেকেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না বা বিলম্ব করেন, যা অনেক সময় মৃত্যুঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় রোগীরা স্হানীয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে সঠিক রোগ শনাক্ত হয় না। অনেক সময় দেখা গেছে, হার্টঅ্যাটাক হয়ে গেছে তিনদিন আগে কিন্তু রোগী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্পর্শে আরো আগে এলেই এ রোগের ঝুঁকি কমাতে পারত। মনে রাখবেন-বুকে ব্যথা হলে, শরীরে ঘাম হলে, বমি বমি লাগলে বা বমি হলে কালক্ষেপণ করবেন না। হাসপাতালের ইমার্জেসিতে অথবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন। বিলম্বে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। কারণ হার্টঅ্যাটাকে শতকরা ২৫ জন এক ঘণ্টার মধ্যে মারা যায়। যারা রয়ে গেল তাদেরও শতকরা ১৫ জন হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যায়। হার্টঅ্যাটাকে আক্রান্ত রোগী সময়মত হাসপাতালে পৌঁছলে ওষুধের চিকিৎসার পাশাপাশি আজকাল প্রাইমারি অ্যানজিওপ্লাষ্টি করা হয় যা আধুনিক বিশ্বে স্বীকৃত চিকিৎসা। বাংলাদেশেও অনেক চিকিৎসক প্রাইমারি অ্যানজিওপ্লাষ্টির মতো আধুনিক চিকিৎসা দিচ্ছেন। তবে এক্ষেত্রে হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা থাকা প্রয়োজন।
বয়স চল্লিশের উপরে গেলে আপনার সতর্ক হওয়া উচিত এবং জানা উচিত হৃদরোগের কোনো ঝুঁকিতে আপনি আছেন কি না। যেমন-উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসে ভুগছেন কি না? রক্তের চর্বির পরিমাণ বা লিপিজ প্রোফাইল কেমন? এছাড়া পরিবারে হৃদরোগজনিত সমস্যার ইতিহাস আছে কি না? তাই আপনার চিকিৎসকের কাছে জেনে নিন আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি আছে কি না বা হৃদরোগে ভুগছেন কি না? এ ব্যাপারে পরবর্তী করণীয় বা চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে বিশদভাবে আলোচনা করুন। মনে রাখবেন, হৃদরোগীদের আকস্মিক মৃত্যুর সম্ভাবনা থেকেই যায়। মাত্র কয়েক মিনিটে এই দুর্ভাগ্যজনক পরিণতি ঘটলেও এই মারাত্মক ব্যাধির উপসর্গ জেনেও প্রতিরোধ করা সম্ভব। এছাড়া যেসব রোগী ইতোমধ্যে একবার হার্টঅ্যাটাক বা আনষ্ট্যাবল অ্যানজাইনার শিকার হয়েছেন তাদেরও হঠাৎ মৃত্যুর ঝুঁকি আছে, যা এখনো সারাবিশ্বে এক বড় আতঙ্ক। যারা ইতোমধ্যে একবার হার্টঅ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের আবারো হার্টঅ্যাটাকে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি রয়ে যায়। আরেকটি ব্যাপার গুরুত্বপুর্ণ তা হলো এসব রোগী দ্বিতীয়বার বা পুনরায় হার্টঅ্যাটাকে আক্রান্ত হবার ভয়ে থাকায় মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এসব রোগীর মানসিকভাবেও সাহায্য করা উচিত। আর তাই চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে প্রয়োজন বন্ধুত্বপুর্ণ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক। রোগী যাতে তার চিকিৎসকের সঙ্গে খুঁটিনাটি সব সমস্যার কথা ভাগাভাগি করতে পারে। এ ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
হৃদপিন্ডের রক্ত সরবরাহকারী ধমনী বা করোনারি আর্টারিতে চর্বি ও অন্যান্য পদার্থের সংমিশ্রণে এথেরোসক্লোরোসিস হয়ে রক্তের অবাধ চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে। ফলে হৃদপিন্ডের ওই মাংসপেশিতে অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দেয়। এ অবস্হাকেই বলা হয় করোনারি আর্টারি ডিজিজ। কখনো কখনো করোনারি আর্টারি চর্বি বা কোলেষ্টেরল জমে আংশিক বা সম্পুর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অ্যালজাইনা থেকে হার্টঅ্যাটাক হতে পারে।
হৃদরোগের উপসর্গঃ বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা, শরীর ফুলে যাওয়া, শরীর নীল হয়ে যাওয়া ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।
হৃদরোগের ভয়াবহতা থেকে রেহাই পেতে নিম্নোক্ত সুপারিশ মেনে চলা উচিত-
--রক্তের চাপ বা ব্লাডপ্রেসার নিয়ন্ত্রণ রাখা
--ডায়াবেটিস বা ব্লাড গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখা
--এলডিএল বা খারাপ কোলেষ্টেরল ১০০ মিগ্রা নিচে রাখা
--শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখা
--ধুমপান ত্যাগ করা এবং
--কায়িক শ্রম বা প্রত্যহ হাঁটাহাঁটি করা।
বুকে ব্যথা হলে চিকিৎসকের উচিত রোগীর একটি ইসিজি করা। কখনো কখনো ইকোকার্ডিওগ্রাফিও করা হয়ে থাকে।
রোগীর ইমার্জেসি চিকিৎসা প্রয়োজন হলে অ্যাসপিরিন ৩০০ দিতে হবে। এছাড়া নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে জিহ্বার নিচে দেয়া লাগতে পারে। অন্যান্য আরো ওষুধ ক্ষেত্র বিশেষে বা রোগীর অবস্হাভেদে ব্যবহৃত হয়। যেমন-ক্লোপিডোগেরল, বিটা ব্লকার, এসিই ইনহিবিটর, ষ্ট্যাটিন হেপারিন। কখনো কখনো ষ্ট্রেপটোকাইনেজ দেয়া হয়ে থাকে। এছাড়া আজকাল জিপি ২বি ৩এ ইনহিবিটর ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখবেন, করোনারি আর্টারি ব্লকেজের ওপর নির্ভর করেই রোগের তারতম্য হয়ে থাকে। কখনো কখনো ওষুধের চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। আবার কখনো কখনো অ্যানজিওগ্রামের মাধ্যমে ব্লকেজের শতকরা হার জেনে করোনারি অ্যানজিওপ্লাষ্টি করা হয়। এছাড়া কখনো কখনো রোগী বুকে ব্যথার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে পৌঁছলে প্রাইমারি অ্যানজিওপ্লাষ্টি করা হয়। ব্লকেজের অবস্হা ভেদে কখনো কখনো বাইপাস সার্জারিও করা হয়।
বি.দ্র. এই লেখাটি ভারতের ম্যাক্স হার্ট এন্ড ভাসকুলার ইনষ্টিটিউটে ইন্টারভেনশন কার্ডিওলজিতে ফেলোশিপ করার সময় অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা হয়েছে।
**************************
ডা. এসএম মোস্তফা জামান
দৈনিক আমারদেশ, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০০৮
সহকারী অধ্যাপক, হৃদরোগ বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
চেম্বারঃ ল্যাবএইড লিমিটেড,
বাড়ি -১, রোড-৪, ধানমন্ডি, ঢাকা।

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০১৫


সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্যে সঠিক খাবার


বেশি বেশি চর্বি খেলেন, শাকসবজি মোটেই পছন্দ করেন না, আর ফাস্টফুড খেয়ে বেড়াচ্ছেন। চিকিৎসকের কাছে এসে বলছেন-হার্ট অ্যাটাক থেকে মুক্ত থাকার ওষুধ দিন। কিন্তু তাতে হার্ট অ্যাটাক এড়াতে পারবেন না। হার্ট অসুস্থ হবেই। তাই হার্টকে সুস্থ রাখার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও খাদ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া। কিছু কিছু খাবার যা হার্টের রোগ হওয়ার ঝুঁকি যেমন বাড়ায় তেমনি কিছু খাবার হার্টের জন্য উপকারী, দরকারিও বটে।

প্রচুর ফলমূল ও শাকসবজি খান। হার্ট সুস্থ থাকবে। কারণ, ফলমূল ও শাকসবজিতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকায় উচ্চরক্তচাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। উচ্চরক্তচাপ না হলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও কমে যায়। সুস্থ থাকবে হার্ট।
মাছের ডিম, মগজ, পনির, ডিমের কুসুম, মাখন যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। যদি প্রয়োজন না হয় পাতে বাড়তি লবণ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। দুধ খাবেন। কিন্তু ননি তোলা দুধ ও দই খান। হার্ট সুস্থ থাকবে।

মগজ বাদ দিয়ে বেশি বেশি মাছ খান। সামুদ্রিক মাছ আরও ভালো। কারণ, মাছের তেলে আছে ‘ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড’, যা হার্টের সুস্থতার জন্য বেশি প্রয়োজন। তাই বেশি মাছ খান। মাংস না খাওয়াই ভালো।

তবে সম্পূর্ণ নিষেধ নেই। সপ্তাহে একবার কম পরিমাণে খান, অর্থাৎ যতটুকু অভ্যস্ত তার অর্ধেকের চেয়ে কম খান। চর্বি সঙ্গে থাকলে তা ফেলে দিন। কখনোই মুরগির চামড়া খাবেন না। তাহলে হার্টে ও দেহে চর্বিও জমবে না। হবেন সুন্দর দেহের অধিকারী, আকর্ষণীয়।

গাঢ় সবুজ শাকসবজি, মাছ, শালগম, সয়াবিন, শুকনা শিমের বিচি বেশি খাবেন। এগুলোতে আছে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম। এই ম্যাগনেসিয়াম হার্টের সুস্থতা বাড়ায়।

যদি এই খনিজ পদার্থটির অভাব হয় তখন হার্টের রক্তনালি করোনারি ধমনি সংকুচিত হয়ে পড়ে হার্ট অ্যাটাক ত্বরান্বিত করে। যারা বেশি মানসিক চাপে থাকেন ও অতিরিক্ত পরিশ্রম করে, তাদের দেহ থেকে ম্যাগনেসিয়াম বেশি বের হয়ে যায় ও শরীরকে নিস্তেজ করে। তাই এই খনিজ পদার্থযুক্ত খাবার খেলে হার্টের সুস্থতা বাড়বে।

শিমের বিচি ও মটরশুঁটিতে থাকে ‘নিয়াসিন’ নামের ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, যা কোলস্টেরল কমিয়ে আনে অর্থাৎ মন্দ চর্বি অল্প ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন (এলডিএল) হ্রাস পায়। তাই বেশি করে খান। আবার বেশি ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন (এইচডিএল) দেহের জন্য উপকারী। ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার যেমন লেবু, আমলকী, কাঁচামরিচ, পেয়ারা, সবুজ শাকসবজি বেশি খেলে এইচডিএল বাড়ে।

হার্ট অ্যাটাক কমায়। তেমনি আঁশযুক্ত খাবার, ফল, সবজি, শস্যখাবার রক্তের চর্বি কমিয়ে আনে। অল্প-স্বল্প বাদাম খেতে পারেন। এটি অসম্পৃক্ত চর্বি। ভালো সয়াবিন তেল খান। কিন্তু টিনজাত বা প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। এগুলো বিপজ্জনক। টাটকা খাবার খান। দেহের উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। যতটুকু সম্ভব হাসুন। দুশ্চিন্তা বা উত্তেজনা নয়। সবার সঙ্গে গল্প করুন। গান গাইতে পারেন মনের আনন্দে। মজার বই পড়ুন। সঙ্গে পরিশ্রমও করুন। ভালো থাকবে দেহ। ভালো থাকবে মন।

**************************
লেখকঃ ডা· এস কে অপু
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ
ময়মনসিংহ চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়
দৈনিক প্রথম আলো, ২৬ ডিসেম্বর ২০০৮


পোষ্ট রাইটার- বাপ্পি খান

মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০১৫




হার্ট অ্যাটাকের আধুনিক চিকি‍‍‍‍তসা প্রাইমারি পিসিআই



চিরতরে চলে গেছেন চিত্রনায়ক মান্না। আর কখনোই তিনি প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হয়ে পর্দা কাঁপাবেন না। মান্নার আকস্মিক মৃত্যুর পর সর্বত্র একই আলোচনা। মান্নাকে কি বাঁচানো সম্ভব ছিল? মান্না তো বুকে ব্যথার সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে গিয়েছিলেন তবে কেন এই পরিণতি? মান্না কি আগে থেকেই হৃদরোগে ভুগছিলেন? বিদেশে পাঠালে কি মান্না বেঁচে যেতেন? এরকম অসংখ্য প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছি প্রতিনিয়ত। একজন কার্ডিওলজিষ্ট হিসেবে রোগীদের এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হয় একটি বিষয় নিশ্চিত যে, মান্না তার অসংখ্য ভক্তকে কাঁদিয়ে যেমন চলে গেছেন, তেমনি হৃদরোগের আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে ভাবিয়ে তুলেছেন তার ভক্তদের। কেউ কেউ ইউনাইটেড হাসপাতালে মান্নার ভুল চিকিৎসা হয়েছে-একথা বলতেও দ্বিধা করছেন না। পত্রিকায় দেখলাম, মান্নার পরিবার এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু আসলেই কি ভুল চিকিৎসা হয়েছিল? নাকি মারাত্মক এ হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী ছিল? হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মৃত্যুর আগপর্যন্ত চিত্রনায়ক মান্নার চারবার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়েছিল। মান্না বুকে ব্যথা নিয়ে গাড়ি চালিয়ে ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছলে ইসিজি ও আনুষঙ্গিক পরীক্ষার পর হার্ট অ্যাটাক শনাক্ত করা হয়। জরুরি বিভাগ থেকে তখন তাকে সিসিইউতে স্হানান্তর করা হয়। প্রাইমারি পিসিআই (একই সঙ্গে করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাম ও অ্যাঞ্জিওপ্লাষ্টি) করার জন্য প্রথমে মান্নার কাছে এবং পরে মান্নার ভাইয়ের কাছে সম্মতি চাওয়া হয়। সম্মতি না পেয়ে হার্টের জমাটবাঁধা রক্ত তরল করার জন্য ইনজেকশনের (ষ্ট্রেপটোকাইনেজ) মাধ্যমে থ্রোম্বোলাইজ করা হলেও তাতে কাজ হয়নি। আবারো পিসিআই করার সম্মতি চাওয়া হয় স্বজনদের কাছে। সম্মতি দেয়া হয়নি তখনো। এ অবস্হায় ১০টা ৩০ মিনিটে হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। সিপিআর ও ডিসি শকের মাধ্যমে মান্নার নিঃশ্বাস স্বাভাবিক করা হয়। কিন্তু কয়েক মিনিট পর দ্বিতীয়বার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর লাগানোর পর পিসিআই করার সম্মতি চান চিকিৎসকরা আবারো। এ অবস্হায় মান্নাকে বাঁচানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষায় বেলা ১১টায় সম্মতি দেয়া হলে টেমপোরারি পেসমেকার লাগানোর পর করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাম করা হয়। অ্যাঞ্জিওগ্রামে প্রধান ৩টি ধমনীতে ৩টি ব্লক শনাক্ত করে রিং (Stent) বসানো হয়। তৃতীয়বার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়। ২০ মিনিট পর চতুর্থবার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হলে ২টা ২৮ মিনিটে মান্নার মৃত্যু ঘটে। মান্নার যে ধরনের হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল, এই হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসায় প্রাইমারি পিসিআই আদর্শ এবং আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি। উন্নত বিশ্বে যা অত্যন্ত জনপ্রিয় চিকিৎসা পদ্ধতি। তবে বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে এ চিকিৎসা পদ্ধতি এখনো ততটা সফলতা পায়নি। করোনারি ধমনীতে শতকরা একশ’ ভাগ ব্লক হলেই কেবল হার্ট অ্যাটাক হয়; তাই যত দ্রুত সম্ভব reperfusion করা উচিত। কেননা বলা হয় Time is muscle অর্থাৎ প্রাইমারি পিসিআই হার্টের মাসল ঘবপৎড়ংরং রক্ষা করা। তবে Medical Contact to balloon ev door-to-balloon time নব্বই মিনিটের মধ্যে হতে হবে। অর্থাৎ রোগী যদি দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছতে পারে, সেই হাসপাতালে যদি প্রাইমারি পিসিআই করার সেটআপ থাকে, যদি দক্ষ ইন্টারভেনশন কার্ডিওলজিষ্ট থাকে তবেই প্রাইমারি পিসিআই করা হয়।

আমাদের দেশে এ চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো সচেতনা সৃষ্টি হয়নি। আমাদের দেশে এ চিকিৎসা পদ্ধতি হাতে গোনা কয়েকটি হাসপাতালে সম্ভব হচ্ছে; কারণ এ বিষয়ে দক্ষ ইন্টারভেনশন কার্ডিওলজিষ্টের সংখ্যা খুবই কম। আবার যেখানে কার্ডিওলজিষ্ট আছে, সেখানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা Technical Support নেই।
এ চিকিৎসা পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করে তুলতে হলে প্রয়োজন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং রোগীদের মাঝে আস্হা অর্জন।

এ আস্হা অর্জন শতকরা একশ’ ভাগ এখনো আমরা করতে পারিনি। তাই মান্নার কাছে সম্মতি চাওয়া হলে তিনি দেননি।

আমাদের দেশে হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসায় বেশিরভাগ হাসপাতালে ষ্ট্রেপটোকাইনেজ দিয়ে থ্রোম্বোলাইজ করা হয়। এ ইনজেকশনের মাধ্যমেই বেশিরভাগ রোগী সুস্হ হয়ে ওঠেন। প্রাইমারি পিসিআই’র মতো উপকার পাওয়া না গেলেও রোগীর মৃত্যুঝুঁকি কমে যায়। তবে এ ইনজেকশনও গোল্ডেন টাইমের মধ্যে দিতে হবে। দেরি করলে এ ইনজেকশনের সুফল থেকে বঞ্চিত হবেন রোগী। তাই বুকে ব্যথার পর বা হার্ট অ্যাটাকের পর দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে এবং চিকিৎসকদেরও দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও ভালো ট্রাসপোট ফ্যাসিলিটি না থাকলে বা door-to-balloon নব্বই মিনিটের বেশি হলে থ্রোম্বোলাইজ করা হয়। তবে ষ্ট্রেপটোকাইনেজের পরিবর্তে এখন আরো ভালো ইনজেকশন/ওষুধ অন্যান্য দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে।

থ্রোম্বোলাইজ করার জন্য ষ্ট্রেপটোকাইনেজ দিলে অনেক সময়ই কার্যকর হয় না অর্থাৎ ধমনীর জমাট রক্ত তরল হয় না। মান্নার ক্ষেত্রেও থ্রোম্বোলাইজ ব্যর্থ হয়েছিল।


ষ্ট্রেপটোকাইনেজ দেয়ার পর ক্লিনিক্যালি রোগীর উন্নতি না হলে কখনো কখনো Rescue PCI করা হয়। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাপী এখনো বিভিন্ন ট্রায়াল চলছে। কোনো কোনো ট্রায়ালে বলা হয়েছে, রেসকিউ পিসিআই হার্ট অ্যাটাক-পরবর্তী মৃত্যু রোধ করে এবং হার্ট ফেইল্যুর প্রতিরোধ করে। আবার কোনো কোনো ট্রায়ালে বলা হয়েছে, রেসকিউ পিসিআই করলে ষ্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি।

বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে কার্ডিয়াক চিকিৎসায় উন্নতির ধারাবাহিকতায় কয়েক যুগ পার করেছে। বেশিদিনের কথা নয়, যখন করোনারি এনজিওগ্রামের জন্য রোগীরা দেশের বাইরে চলে যেতেন। অথচ এখন সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও প্রাইভেট সেক্টরগুলো হৃদরোগ চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্হার প্রতি আস্হা শতভাগ উন্নীত করতে হবে। সিঙ্গাপুর অত্যন্ত ছোট একটি দেশ। সিঙ্গাপুরের মানুষ সে দেশে সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাই চিকিৎসক, রোগী এবং চিকিৎসা ব্যবস্হায় সরকারের ভুমিকা জোরদার হওয়া উচিত।

হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা বিষয়ে, বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সরকারি তত্ত্বাবধানে, একটি জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্হা গাইড লাইন থাকা দরকার। যেমন জাপানে হার্ট-অ্যাটাকের চিকিৎসায় কি ধরনের ওষুধ ব্যবহার হবে কিংবা Primary PCI তে কী ধরনের Stent বা রিং ব্যবহার হবে তার একটি গাইড লাইন আছে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলো বেশির ভাগই ঢাকা কেন্দ্রিক তাই বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন। আরেকটি বিষয় চিকিৎসা সেবা বা খরচের ব্যাপারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। প্রয়োজনে এমন টেকনোলজি উদ্ভাবন প্রয়োজন যার উপকরণ ও তৈরি আমাদের দেশেই সম্ভব।
হৃদরোগ চিকিৎসার (Stenting) ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বা সাধারণ রোগীদের দিতে না পারলে রোগী এবং চিকিৎসকের মধ্যে কখনোই আস্হার বন্ধুত্ব হবে না। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা সরকারের বিস্তৃত ভাবনা প্রয়োজন। শুধু চিকিৎসা বিষয়ক যন্ত্রপাতি আমদানিতে সরকারের উদার হওয়া উচিত বলেই ক্ষান্ত হওয়া উচিত নয়।

বুকে ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের একটি বিপজ্জনক সংকেত বা উপসর্গ। তবে ডায়াবেটিক রোগীরা সবসময় বুকে ব্যথা অনুভব নাও করতে পারেন। এটি আরো মারাত্মক। অনেকে হৃদরোগের ব্যথাকে গ্যাষ্ট্রিকের ব্যথা ভেবে চিকিৎসকের শরণাপণ্ন না হয়ে নিজে নিজেই এন্টাসিড জাতীয় ওধুষ খেতে থাকেন। চিকিৎসকের স্পর্শ পেতে এই বিলম্ব কখনো কখনো হার্ট অ্যাটাকের মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়। মনে রাখবেন বুকে ব্যথা হলে, শরীরে ঘাম হলে, বমি বমি লাগলে বা বমি হলে, কালক্ষেপণ করবেন না। হাসপাতালের ইমার্জেসিতে বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপণ্ন হবেন। বিলম্বে মৃত্যুর ঝুকি বেশি। কারণ গবেষণার দেখা গেছে, হার্টঅ্যাটাকে শতকরা ২৫ জন এক ঘণ্টার মধ্যে মারা যায়। বাকি রোগীদের শতকরা ১৫ জন হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যায়। হার্টঅ্যাটাকের উপসর্গ হলে অ্যাসপিরিন ৩০০ মি. গ্রাম এবং ক্লোপিডোগ্রেল ৩০০ মিগ্রা (৭৫ গ্রামের ৪টি বড়ি) এক সঙ্গে খেতে হবে। এছাড়া বুকে চাপ বা ভার ভার অনুভুত হলে, রক্তচাপ থাকলে নাইট্রোমিন্ট স্প্রে (২ চাপ) জিহ্বার নিচে দেবেন। হার্টঅ্যাটাকে আক্রান্ত রোগী সময়মত হাসপাতালে পৌঁছলে ওষুধের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রাইমারি পিসিআই করা হয়। হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকিকে এখন আর বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না। তবু চল্লিশের উপরে প্রত্যেক পুরুষ এবং মহিলার জানা প্রয়োজন কোনো ঝুঁকিতে আপনি আছেন কিনা। যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তের চর্বির পরিমাণ বা লিপিড প্রোফাইল ইত্যাদি। এছাড়া ধুমপান, তামাক, শারীরিক স্হুলতা, পারিবারিক হৃদরোগের ইতিহাস ইত্যাদি জেনে সতর্ক হওয়া উচিত। কেননা হার্টঅ্যাটাকের চিকিৎসার চেয়ে হার্টঅ্যাটাক প্রতিরোধই উত্তম।
*************************
ডা. এস এম মোস্তফা জামান
লেখকঃ সহকারী অধ্যাপক, হৃদরোগ বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ফেলো -ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি ম্যাক্স হার্ট এন্ড ভাসকুলার ইনষ্টিটিউড, নিউ দিল্লী, ইন্ডিয়া। চেম্বারঃ ল্যাবএইড লিমিটেড
বাড়ি-১, রোড-৪, ধানমন্ডি, ঢাকা।
আমার দেশ, ১৫ মার্চ ২০০৮

সোমবার, ১১ মে, ২০১৫



রক্তে চর্বি যখন ক্ষতিকর


আমাদের রক্ত ও ফ্যাট সেলে (চর্বির কোষে) ট্রাইগিস্নসেরাইড পাওয়া যায়।
রক্তে এর স্বাভাবিক মাত্রা হচ্ছে ১৫০ মিলিগ্রাম ডিএল। এর মাত্রা ২০০
মিলিগ্রাম ডিএল এর বেশি হলে ঝুঁকি নির্দেশ করে এবং কারো কারো রক্তে এর
মাত্রা আরো বেশি, যেমন ৩৫০, ৪০০, ৫০০, ৫৫০ মিলিগ্রাম ডিএল এমন কি এর
বেশিও দেখা যায়। রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইডের আধিক্যে হ্নদপিন্ড ও
প্যানক্রিয়াসের জন্য ঝুঁকি বহন করে, ফলে হ্নদরোগের সম্ভাবনা বাড়ে।
রক্তে অধিক ট্রাইগিস্নসেরাইডের কারণঃ

(১) জীবনযাত্রাঃ কায়িক পরিশ্রম কম, শরীরের অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান, অনেক
সময় ধরে না খেয়ে থাকা এবং এক সাথে বেশি খাবার গ্রহণ করা।
(২) খাদ্যাভ্যাসঃ অতিরিক্ত মদ্যপান, স্যাচুরেটেড ফ্যাট (সম্পৃক্ত চর্বি)
গ্রহণ, ট্রাণ ফ্যাট (আগুনের তাপে ভাজা/রান্না খাবার), চিনি, স্টার্চ
(আলু, ভাত ও ভাতের মাড়) এবং অধিক ক্যালরিযুক্ত খাবার। এই সমস্ত্য খাবার
রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইডের মাত্রা বাড়ায়।
(৩) রোগের ইতিহাসঃ
১· ডায়াবেটিস কন্ট্রোল না থাকলে। অর্থাৎ, রক্তে গস্নুকোজের পরিমাণ
অত্যাধিক বেড়ে গেলে ট্রাইগিস্নসেরাইডের পরিমাণ বাড়ে।
২· পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রম (পিসিওএস)।
৩· কিডনি রোগ হলে।
৪· একই পরিবারে এই রোগের প্রবণতা থাকলেও অন্যদের রক্তে
ট্রাইগিস্নসেরাইডের মাত্রা বেড়ে যায়।
যে সমস্তô খাবার রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইড এর মাত্রা বাড়ায়
১· এলকোহল সমৃদ্ধ পানীয়।
২· স্যাচুরেটেড ফ্যাটঃ (সম্পৃক্ত চর্বি) প্রাণিজ চর্বিসহ অন্যান্য চর্বি
যেমন মাখন, ডালডা এমন কি তেলে ভাজা খাবার। পূর্ণ চর্বিমুক্ত দুধ। পূর্ণ
চর্বিযুক্ত দুধের তৈরি খাবার পনির, ক্রিম, গরম্ন ও খাসীর মাংস এবং ফাস্ট
ফুড।
৩· ট্রান্সফ্যাস্টঃ হাইড্রোজিননেটেড ফ্যাট আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর
হাইড্রোজিননেটেড ফ্যাট যে খাবারগুলোতে পাওয়া যায় মার্জারিন, ভাজা
খাবার, ফাস্ট ফুড, পেস্ট্রি, কেক, পাই, ক্রেকার্স ইত্যাদি আমাদের রক্তে
ট্রাইগিস্নসেরাইডের মাত্রা বাড়ায়।
চিনিঃ বিভিন্ন মিষ্টি জাতীয় খাবার যার মধ্যে উচ্চ ঘনত্বের চিনি থাকে
যেমনঃ চিনি, মধু, সিরা, জ্যাম, জেলী, কেনডি। এছাড়াও বিভিন্ন মিষ্টি খাবার
যেমনঃ পাই কেক, কুকিজ, আইসক্রিম, দই, মিষ্টি, সেমাই, পুডিং, পায়েস-এ
সমস্ত খাবার খেলে রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইডের পরিমাণ বাড়ে এবং যাদের
ইতিমধ্যে রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইডের পরিমাণ বেশি তাদের এসব খাবার পরিহার
করতে হবে।
পানীয়ঃ ফলের জুস, কোমল পানীয়, ফ্রুট, পাঞ্জেস, সোডা, মিষ্টি কেক ও চিনির শরবত।
রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইডের পরিমাণ বাড়ায়।
অন্যান্য খবরঃ বিভিন্ন ঘন খাবার যেমনসৈজি, এনার্জি চকলেটবার রক্তে
ট্রাইগিস্নসেরাইডের পরিমাণ বাড়ায়।
ষ্টার্চ যুক্ত ঘন খাবারের মধ্যে আরো রয়েছে ভাত, পান্তা, আলু, বড় রোল,
পিজা, পপকর্ণ, খিচুড়ি, জাউভাত, এগুলো বেশি পরিমাণে খেলে রক্তে
ট্রাইগিস্নসেরাইডের পরিমাণ বাড়ে।
রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইড নিয়ন্ত্রণ
সবচেয়ে ভালো স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বাছাই করতে হবে।
সঠিক খাবার।
ফলঃ মৌসুমী ফলের সবচেয়ে ভালো গন্ধ, স্বাদ ও পুষ্টি থাকে। ফলের জুস না
খেয়ে গোটা ফল কেটে খাওয়া ভালো কারণ বাজারের প্যাকেটজাত ফলের জুসে চিনির
মাত্রা বেশি।
সবজিঃ প্রতিদিন কমপড়্গে ৩ কাপ অথবা তারও বেশি সবুজ ও রঙিন শাক-সবজি খেতে
হবে। সবজি প্রস্তুতকরণে বৈচিত্র্য এনে খাবারের রম্নচি ও আগ্রহ বাড়াতে
হবে।
আটাঃ ধবধবে সাদা ময়দার রম্নটি না খেয়ে লাল আটার রম্নটি খাওয়া ভালো। কারণ
ময়দা রক্তে চিনি পরিমাণ দ্রম্নত বাড়ায় এবং অধিক ময়দা গ্রহণে রক্তে
ট্রাইগিস্নসেরাইডের পরিমাণও বাড়ে।
প্রোটিনঃ
১· কম চর্বিযুক্ত মাংস নির্বাচন করতে হবে।
২· রান্নার আগে মুরগির চামড়া ফেলে দিতে হবে।
৩· ডিমের সাদা অংশে কোন চর্বি থাকে না।
৪· ডাল দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রোটিন হলেও এর মধ্যে আঁশ-এর ভাগ বেশি যা
ট্রাইগিস্নসেরাইড কমাতে সাহায্যে করে।
৫· সপ্তাহে কমপক্ষে দুই থেকে তিনদিন মাছ খাওয়া ভালো, সামুদ্রিক মাছ
রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইড কমায়।
দুগ্ধজাত খাবারঃ চর্বিবিহীন দুধ অথবা ১% চর্বি দুধ অথবা কম চর্বিযুক্ত
দুধের দই (চিনি ছাড়া) খেতে হবে।
চর্বিঃ
১· প্রতিদিন জনপ্রতি ৩ চা চামচ তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।
২· ডালডা ও ঘি পরিহার করতে হবে।
চিনি ব্যবহারে খুব সতর্ক হোন, চিনি ছাড়া খাবার নির্বাচন করম্নন।
ট্রাইগিস্নসেরাইড কমানোর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নির্দেশিকাঃ
১· প্রতিদিন ৬ বার অল্প অল্প করে খাবার গ্রহণ করম্নন।
২· ৩০ মিঃ করে সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন হাঁটুন।
৩· আপনি যদি অধিক ওজনের অধিকারী হন তবে জেনে নিন আপনার বয়স ও উচ্চতার
তুলনায় আপনার আদর্শ ওজন কত? বাকিটুকু কমিয়ে ফেলুন।
৪· বেশি করে আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করম্নন।
৫· ডুবু তেলে ভাজা খাবার আজ থেকেই ছেড়ে দিন।
৬· আপনি যদি ডায়াবেটিকে আক্রান্তô হন তবে অবশ্যই রক্তে গ্লুকোজের(চিনি) মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করুন, অন্যেরাও সতর্ক হোন।
৭· ধূমপান আর না।
৮· প্রতিদিন ১০-১২ গস্নাস বিশুদ্ধ পানি গ্রহণ নিশ্চিত করম্নন।

*********************************
লেখকঃ এসএন শম্পা,
কনসালটেন্ট নিউট্রিশনিস্ট, অতিরিক্ত ওজন কমানো ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ
চেম্বারঃ শমরিতা হাসপাতাল লিঃ, ৮৯/১, পান্থপথ, ঢাকা।
উৎসঃ দৈনিক ইত্তেফাক, ১১ নভেম্বর ২০০

রবিবার, ১০ মে, ২০১৫


মানসিক চাপ থেকে হার্ট এ্যাটাক


মানসিক চাপ থেকে হার্ট এ্যাটাক


মানসিক চাপ বা স্ট্রেস অতিমাত্রায় বাড়লে এবং তা দীর্ঘস্থায়ী হলে হার্ট
এ্যাটাক, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, কোলেস্টারল বৃদ্ধি ইত্যাদি
বিভিন্ন মেটাবলিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। বিজ্ঞানীদের
মতে স্ট্রেস বা মানসিক চাপের কারণে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশ
পিটুইটারী নামের অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিকে উজ্জীবিত করে, যা দ্রুত
অ্যাড্রিনাল নামক গ্রন্থিকে অতিমাত্রায় কর্টিসোল নামের স্ট্রেস হরমোনের
নিঃসরণে উদ্দীপ্ত করে। রক্তে কর্টিসোলের মাত্রাবৃদ্ধির কারণে বিপাকীয়
কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়- কেউ কেউ অতিরিক্ত আহারে অভ্যস্ত হয়। স্ট্রেস
মোকাবিলায় ধূমপান, মদ্যপানে আসক্ত হয় এবং সক্রিয় জীবন-যাপন থেকে নিজেকে
গুটিয়ে নেয়। এসব কারণে স্থূলতা বাড়ে মেদভুঁড়ির সৃষ্টি হয়, যা পরিণামে
ঝুঁকিপূর্ণ রোগের জন্ম দেয়। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা তাই মানসিক চাপ
স্ট্রেস এড়াতে উপদেশ দিয়েছেন।
**************************
উৎসঃ দৈনিক নয়াদিগন্ত, ০২ ডিসেম্বর ২০০৮