what is my ip address?

সোমবার, ১১ মে, ২০১৫



রক্তে চর্বি যখন ক্ষতিকর


আমাদের রক্ত ও ফ্যাট সেলে (চর্বির কোষে) ট্রাইগিস্নসেরাইড পাওয়া যায়।
রক্তে এর স্বাভাবিক মাত্রা হচ্ছে ১৫০ মিলিগ্রাম ডিএল। এর মাত্রা ২০০
মিলিগ্রাম ডিএল এর বেশি হলে ঝুঁকি নির্দেশ করে এবং কারো কারো রক্তে এর
মাত্রা আরো বেশি, যেমন ৩৫০, ৪০০, ৫০০, ৫৫০ মিলিগ্রাম ডিএল এমন কি এর
বেশিও দেখা যায়। রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইডের আধিক্যে হ্নদপিন্ড ও
প্যানক্রিয়াসের জন্য ঝুঁকি বহন করে, ফলে হ্নদরোগের সম্ভাবনা বাড়ে।
রক্তে অধিক ট্রাইগিস্নসেরাইডের কারণঃ

(১) জীবনযাত্রাঃ কায়িক পরিশ্রম কম, শরীরের অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান, অনেক
সময় ধরে না খেয়ে থাকা এবং এক সাথে বেশি খাবার গ্রহণ করা।
(২) খাদ্যাভ্যাসঃ অতিরিক্ত মদ্যপান, স্যাচুরেটেড ফ্যাট (সম্পৃক্ত চর্বি)
গ্রহণ, ট্রাণ ফ্যাট (আগুনের তাপে ভাজা/রান্না খাবার), চিনি, স্টার্চ
(আলু, ভাত ও ভাতের মাড়) এবং অধিক ক্যালরিযুক্ত খাবার। এই সমস্ত্য খাবার
রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইডের মাত্রা বাড়ায়।
(৩) রোগের ইতিহাসঃ
১· ডায়াবেটিস কন্ট্রোল না থাকলে। অর্থাৎ, রক্তে গস্নুকোজের পরিমাণ
অত্যাধিক বেড়ে গেলে ট্রাইগিস্নসেরাইডের পরিমাণ বাড়ে।
২· পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রম (পিসিওএস)।
৩· কিডনি রোগ হলে।
৪· একই পরিবারে এই রোগের প্রবণতা থাকলেও অন্যদের রক্তে
ট্রাইগিস্নসেরাইডের মাত্রা বেড়ে যায়।
যে সমস্তô খাবার রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইড এর মাত্রা বাড়ায়
১· এলকোহল সমৃদ্ধ পানীয়।
২· স্যাচুরেটেড ফ্যাটঃ (সম্পৃক্ত চর্বি) প্রাণিজ চর্বিসহ অন্যান্য চর্বি
যেমন মাখন, ডালডা এমন কি তেলে ভাজা খাবার। পূর্ণ চর্বিমুক্ত দুধ। পূর্ণ
চর্বিযুক্ত দুধের তৈরি খাবার পনির, ক্রিম, গরম্ন ও খাসীর মাংস এবং ফাস্ট
ফুড।
৩· ট্রান্সফ্যাস্টঃ হাইড্রোজিননেটেড ফ্যাট আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর
হাইড্রোজিননেটেড ফ্যাট যে খাবারগুলোতে পাওয়া যায় মার্জারিন, ভাজা
খাবার, ফাস্ট ফুড, পেস্ট্রি, কেক, পাই, ক্রেকার্স ইত্যাদি আমাদের রক্তে
ট্রাইগিস্নসেরাইডের মাত্রা বাড়ায়।
চিনিঃ বিভিন্ন মিষ্টি জাতীয় খাবার যার মধ্যে উচ্চ ঘনত্বের চিনি থাকে
যেমনঃ চিনি, মধু, সিরা, জ্যাম, জেলী, কেনডি। এছাড়াও বিভিন্ন মিষ্টি খাবার
যেমনঃ পাই কেক, কুকিজ, আইসক্রিম, দই, মিষ্টি, সেমাই, পুডিং, পায়েস-এ
সমস্ত খাবার খেলে রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইডের পরিমাণ বাড়ে এবং যাদের
ইতিমধ্যে রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইডের পরিমাণ বেশি তাদের এসব খাবার পরিহার
করতে হবে।
পানীয়ঃ ফলের জুস, কোমল পানীয়, ফ্রুট, পাঞ্জেস, সোডা, মিষ্টি কেক ও চিনির শরবত।
রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইডের পরিমাণ বাড়ায়।
অন্যান্য খবরঃ বিভিন্ন ঘন খাবার যেমনসৈজি, এনার্জি চকলেটবার রক্তে
ট্রাইগিস্নসেরাইডের পরিমাণ বাড়ায়।
ষ্টার্চ যুক্ত ঘন খাবারের মধ্যে আরো রয়েছে ভাত, পান্তা, আলু, বড় রোল,
পিজা, পপকর্ণ, খিচুড়ি, জাউভাত, এগুলো বেশি পরিমাণে খেলে রক্তে
ট্রাইগিস্নসেরাইডের পরিমাণ বাড়ে।
রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইড নিয়ন্ত্রণ
সবচেয়ে ভালো স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বাছাই করতে হবে।
সঠিক খাবার।
ফলঃ মৌসুমী ফলের সবচেয়ে ভালো গন্ধ, স্বাদ ও পুষ্টি থাকে। ফলের জুস না
খেয়ে গোটা ফল কেটে খাওয়া ভালো কারণ বাজারের প্যাকেটজাত ফলের জুসে চিনির
মাত্রা বেশি।
সবজিঃ প্রতিদিন কমপড়্গে ৩ কাপ অথবা তারও বেশি সবুজ ও রঙিন শাক-সবজি খেতে
হবে। সবজি প্রস্তুতকরণে বৈচিত্র্য এনে খাবারের রম্নচি ও আগ্রহ বাড়াতে
হবে।
আটাঃ ধবধবে সাদা ময়দার রম্নটি না খেয়ে লাল আটার রম্নটি খাওয়া ভালো। কারণ
ময়দা রক্তে চিনি পরিমাণ দ্রম্নত বাড়ায় এবং অধিক ময়দা গ্রহণে রক্তে
ট্রাইগিস্নসেরাইডের পরিমাণও বাড়ে।
প্রোটিনঃ
১· কম চর্বিযুক্ত মাংস নির্বাচন করতে হবে।
২· রান্নার আগে মুরগির চামড়া ফেলে দিতে হবে।
৩· ডিমের সাদা অংশে কোন চর্বি থাকে না।
৪· ডাল দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রোটিন হলেও এর মধ্যে আঁশ-এর ভাগ বেশি যা
ট্রাইগিস্নসেরাইড কমাতে সাহায্যে করে।
৫· সপ্তাহে কমপক্ষে দুই থেকে তিনদিন মাছ খাওয়া ভালো, সামুদ্রিক মাছ
রক্তে ট্রাইগিস্নসেরাইড কমায়।
দুগ্ধজাত খাবারঃ চর্বিবিহীন দুধ অথবা ১% চর্বি দুধ অথবা কম চর্বিযুক্ত
দুধের দই (চিনি ছাড়া) খেতে হবে।
চর্বিঃ
১· প্রতিদিন জনপ্রতি ৩ চা চামচ তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।
২· ডালডা ও ঘি পরিহার করতে হবে।
চিনি ব্যবহারে খুব সতর্ক হোন, চিনি ছাড়া খাবার নির্বাচন করম্নন।
ট্রাইগিস্নসেরাইড কমানোর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নির্দেশিকাঃ
১· প্রতিদিন ৬ বার অল্প অল্প করে খাবার গ্রহণ করম্নন।
২· ৩০ মিঃ করে সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন হাঁটুন।
৩· আপনি যদি অধিক ওজনের অধিকারী হন তবে জেনে নিন আপনার বয়স ও উচ্চতার
তুলনায় আপনার আদর্শ ওজন কত? বাকিটুকু কমিয়ে ফেলুন।
৪· বেশি করে আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করম্নন।
৫· ডুবু তেলে ভাজা খাবার আজ থেকেই ছেড়ে দিন।
৬· আপনি যদি ডায়াবেটিকে আক্রান্তô হন তবে অবশ্যই রক্তে গ্লুকোজের(চিনি) মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করুন, অন্যেরাও সতর্ক হোন।
৭· ধূমপান আর না।
৮· প্রতিদিন ১০-১২ গস্নাস বিশুদ্ধ পানি গ্রহণ নিশ্চিত করম্নন।

*********************************
লেখকঃ এসএন শম্পা,
কনসালটেন্ট নিউট্রিশনিস্ট, অতিরিক্ত ওজন কমানো ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ
চেম্বারঃ শমরিতা হাসপাতাল লিঃ, ৮৯/১, পান্থপথ, ঢাকা।
উৎসঃ দৈনিক ইত্তেফাক, ১১ নভেম্বর ২০০

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন